সিসিটিভি : ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতি বাণিজ্য এগিয়ে নিতে নতুন নতুন কৌশল এবং নীতি প্রণয়ন করে চীন। ফলে গত বছরে বেইজিংয়ের সঙ্গে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে হারে বেড়েছে। জার্মানির হামবুর্গ বন্দরের কন্টেইনার পরিবহনের পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। বন্দরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রগামী কন্টেইনার পরিবহন আগের বছরের তুলনায় ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার টিইউ-এ।

হামবুর্গ বন্দরের বোর্ড সদস্য অ্যাক্সেল ম্যাটার্ন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির কড়াকড়ির কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য রুটে পরিবর্তন এসেছে। এর বিপরীতে এশিয়ার সঙ্গে, বিশেষ করে চীনের সঙ্গে বন্দরের কার্গো পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের সঙ্গে হামবুর্গ বন্দরের টইনার পরিবহন প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জার্মানির ফেডারেল পরিসংখ্যান দপ্তর ডেস্টাটিস জানায়, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে আবারও জার্মানির সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হয়েছে চীন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাড়তে থাকা বাণিজ্য বাধা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকির কারণে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো তাদের বৈশ্বিক ব্যবসায়িক কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে। অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে বিকল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

একইসঙ্গে ইউরোপীয় বাজারে চীনা কোম্পানিগুলোর উপস্থিতিও বাড়ছে। চীনের কাস্টমস প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছিল চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। এ সময়ে চীন ইইউ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৩৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে।