# ইরানযুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প
# বাব আলমান্দের প্রণালী বন্ধের হুমকি হুতিদের
# যুদ্ধাবসান চান ৬৬ শতাংশ মার্কিনী
# দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শেষ হবে
# মোজতবা খামেনি ইরানেই আছেন
হরমুজ প্রণালীতে অভিযান চালানোর জন্য ন্যাটো গঠিত হয়নি। সেখানে এমন কিছু করা হবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্প নানা কটাক্ষ করায় ফ্রান্স এমন মন্তব্য করে। এছাড়া ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইারে চলে গেছে বলে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ জানিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ^ অর্থনীতি মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে লন্ডন ভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক পিল হান্ট। ইরানে তার মিত্র প্রতিরোধ ফ্রন্ট শেষ দফার হামলায় ১৫৫টির বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। ইসরাইল যুুক্তরাষ্ট্রকে থামাকে বাব আলমান্দের প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়েছে হুতিরা। এর বাইরে কাতার, কুয়েত, ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দ্রুত ইরান যুদ্ধের অবসান চান ৬৬ শতাংশ মার্কিনী। এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, দুিই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান অভিযান শেষ হবে। আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, দ্য টেলিগ্রাফ।
হরমুজ প্রণালীতে অভিযানের জন্য ন্যাটো গঠিত হয়নি
ফ্রান্সের কনিষ্ঠ প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যালিস রুফো বলেন, ‘ন্যাটো আসলে কী, তা আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই। এটি এমন একটি সামরিক জোট, যা ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। এটি হরমুজ প্রণালিতে অভিযান পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়নি। সেখানে এমন কিছু করা হবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলা শুরু করে। তখন থেকে ইরান বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেয়। তা খুলতে মিত্রদেশগুলোকে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু তারা সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। ফলে ইউরোপকে আর নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশীদার মনে করছে না যুক্তরাষ্ট্র।
সাড়া না দেওয়ায় ন্যাটো নিয়ে নানা কটাক্ষ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ দেশটির অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা। গতকাল বুধবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সামরিক জোটটি থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা তিনি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন। এর আগে ন্যাটো মিত্রদের ‘ভীরু’ বলে বিদ্রূপ করেছিলেন তিনি।
ইরান যুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প
চলমান ইরান যুদ্ধ ঘিরে ক্রমেই অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইতোমধ্যেই তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন বলেও বলা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘ হলে শুধু জ্বালানি সংকটই নয়, বড় অর্থনীতির দেশগুলোও মুদ্রাস্ফীতিসহ মন্দার মুখে পড়তে পারে। এমনকি যুদ্ধ শেষ হলেও প্রভাব কাটতে লাগতে পারে অনেক সময়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে— এমন আশঙ্কার মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে লন্ডনভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক পিল হান্ট।
তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘ হলে বড় অর্থনীতির দেশগুলো ‘মুদ্রাস্ফীতিজনিত মন্দার’ ঝুঁকিতে পড়বে। অর্থাৎ, একই সঙ্গে দাম বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে, এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
আরও শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরান ও তার মিত্র ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ শেষ দফার হামলায় ১০০টিরও বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি অন্তত ২০০টি রকেট ছুড়েছে।
আইআরজিসির তথ্যমতে, এসব হামলায় ইসরাইলের বিভিন্ন স্থান এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একটি ঘাঁটি এবং কুয়েতের আল-আদিরি ঘাঁটিতে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ইউনিট রয়েছে। তাদের দাবি, সেখানে একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে।
কাতারের তেল ট্যাংকারে ইরানের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা ইসরাইলের ওপর তৃতীয় দফা হামলা চালিয়েছেন। বুধবার সকালে দক্ষিণ ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে গোষ্ঠীটি।
ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
এক বিবৃতিতে হুতিরা জানান, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে মিলে তারা চলতি যুদ্ধে তাদের তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি চালিয়েছে।
তেহরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি বলেছে, তারা একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ‘ইসরাইলি শত্রুদের স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তু’ লক্ষ্য করে তৃতীয় এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
লেবানন, ইরান, ইরাক এবং দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ‘ভয়াবহ’ করে তোলার হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করার প্রায় তিন ঘণ্টা পর হুতিদের এ বিবৃতি এল। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, জ্বালানি ট্যাংকে ভয়াবহ আগুন
কুয়েতের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকা- ঘটেছে।
কুয়েতের বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ বুধবার বিমানবন্দরটি ইরানি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। ফলে জ্বালানি ট্যাংকে ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে।
কুয়েত নিউজ এজেন্সির (কুনা) প্রতিবেদনে বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরটি ইরান ও দেশটির সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চালানো হামলার শিকার হয়েছে।
মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজি বলেন, হামলায় জ্বালানি মজুত করার ট্যাংকগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এর ফলে সেখানে বিশাল অগ্নিকা-ের সূত্রপাত হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেন থেকে তৃতীয়বারের মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইসরাইলে
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা বুধবার সকালে দক্ষিণ ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছেন। ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
এক বিবৃতিতে হুতিরা জানান, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে মিলে তারা চলতি যুদ্ধে তাঁদের তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি চালিয়েছে।
তেহরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি বলেছে, তারা একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ‘ইসরাইলি শত্রুদের স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তু’ লক্ষ্য করে তৃতীয় এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
লেবানন, ইরান, ইরাক এবং দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ‘ভয়াবহ’ করে তোলার হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করার প্রায় তিন ঘণ্টা পর হুতিদের এ বিবৃতি এল। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দ্রুত ইরান যুদ্ধের অবসান চান ৬৬ শতাংশ মার্কিনী
যুক্তরাষ্ট্রের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করেন, ইরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন না হলেও দেশটির উচিত দ্রুত এ যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত শুক্রবার থেকে গত রোববার পর্যন্ত জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৬৬ শতাংশ যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার পক্ষে মত দিয়েছেন।
অন্যদিকে ২৭ শতাংশ বলেছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইরানে তাদের সব লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়া। আর ৬ শতাংশ মানুষ এ বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি।
ট্রাম্পের রিপাবলিকান সমর্থকদের যাঁরা জরিপে অংশ নিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যেও ৪০ শতাংশ মনে করেন, লক্ষ্য অর্জন না হলেও দ্রুত সংঘাত শেষ করা দরকার।
অপরদিকে ৫৭ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থক দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধে সম্পৃক্ত থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন।
১ হাজার ২১ জনের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছেন। আর ৩৫ শতাংশ তা সমর্থন করেছেন।
দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান অভিযান শেষ হবে
ইরানে চলমান সামরিক অভিযান আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তেল ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি সচল রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই নিতে হবে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার কথা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। তার আগে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার মিত্র দেশগুলোর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক দেশই যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ প্রচেষ্টায় পর্যাপ্ত সহায়তা দিচ্ছে না। মিত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের তেল আপনারা বুঝে নিন।
ট্রাম্প জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এরপর কী ঘটবে, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও সম্পর্ক থাকবে না। বরং যারা তেল ও বাণিজ্যের জন্য এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল, তাদেরই এটি উন্মুক্ত রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের রফতানি এবং খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় আমদানির জন্য এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়।
এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েই চলেছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানির এই উচ্চমূল্যের প্রভাব খুব দ্রুতই নিত্যপণ্যের বাজারে পড়বে। পরিবহন ও প্যাকেজিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে আরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হতে পারে।
মোজতবা খামেনি কোথায়, যা জানালেন রুশ রাষ্ট্রদূত
প্রায় এক মাস হতে চলল ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসেছেন মোজতবা খামেনি। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত একবারের জন্যও তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর বেশ কিছু বিবৃতি পড়ে শোনানো হলেও তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতি বিশ্বজুড়ে নানা জল্পনা আর গুজবের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
তবে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে এবার মুখ খুলেছেন ইরানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সি দেদোভ। আরটিভিআই নিউজ আউটলেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি বর্তমানে ইরানেই অবস্থান করছেন। দেদোভের দাবি, সংগত কারণেই তিনি আপাতত জনসমক্ষে আসা এড়িয়ে চলছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পরপরই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, ওই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত বা বিকৃত হয়েছেন। এমনকি একটি সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে গোপনে মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব বা জনসমর্থনে কোনো ভাটা পড়েনি। গত এক মাসে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে নতুন নেতার প্রতি তাঁদের আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টা হামলার পর এই আনুগত্য আরও প্রকট হয়েছে।