রয়টার্স, বিবিসি
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহ প্রকাশ ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে চলমান শান্তি আলোচনা এর ফলে আড়ালে পড়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি ইউরোপের নিরাপত্তা যে কতটা ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল সে প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশ্লেষণে এমন পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে।
ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জুলিয়ান স্মিথ বলেন, “গ্রিনল্যান্ড দখল করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন যখন কথা বলে, তখন ইউরোপের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া। শুধু সংযমের আহ্বান জানানো যথেষ্ট নয়। ইউরোপের প্রভাবশালী শক্তিগুলোর উচিত এখন থেকেই বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করা এবং নতুন ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো সাহসী ও সময়োপযোগী ধারণা বিবেচনা করা।”
প্যারিসে ইউক্রেন ইস্যুতে এক বৈঠকে ইউরোপের ছয়টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানায়। তবে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হোয়াইট হাউজ জানায়, তারা একতরফাভাবে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ব্যাপারে বিভিন্ন ধরণের বিকল্পগুলো বিবেচনা করছে, এর মাঝে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের কাছে থেকে ক্রয় করাও একটি উল্লেখযোগ্য বিকল্প। আর সামরিক পদক্ষেপও একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে বলে ওয়াশিংটন সতর্ক করেছে।
ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের ক্যামিল গ্রান্দে বলেন, “ইইউ এর ২৭টি সদস্য দেশ এবং ন্যাটো মিত্র যুক্তরাজ্য একসঙ্গে যদি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিতো, তাহলে তা ওয়াশিংটনের প্রতি একটি শক্তিশালী বার্তা হতো।”
ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা জোরদারে ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ঘোষণা দিলেও ট্রাম্প কোপেনহেগেনের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং সেখানে রাশিয়া ও চীনের উপস্থিতির কথা তুলে ধরেন। ইউরোপীয় নেতারা সরাসরি ওয়াশিংটনের মুখোমুখি হতে অনিচ্ছুক, কারণ যুক্তরাষ্ট্র একতরফা পদক্ষেপ নিলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
শীতল যুদ্ধের সময় থেকেই গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। অতীতে ট্রাম্প দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পর ইউরোপীয় নেতারা তার এই আকাঙ্ক্ষাকে এখন আরও গুরুতর উদ্বেগের চোখে দেখছেন।