রয়টার্স : চলতি মাসে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ১২টি বেশি গ্রাম দখলে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন রুশ সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ। গত রবিবার মস্কোর সেনা কার্যক্রম পরিদর্শনে তিনি এ কথা জানান।

প্রায় চার বছরের যুদ্ধের অবসান এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মস্কোর পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের চতুর্থ বার্ষিকীর আগে জেনেভায় মার্কিন মধ্যস্থতায় কিয়েভের সঙ্গে আলোচনার কয়েকদিন আগে গেরাসিমভ সেনা কার্যক্রম পরিদর্শনে যান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির দুই সপ্তাহে তীব্র শীতকালীন পরিস্থিতি সত্ত্বেও যৌথ বাহিনী এবং যৌথ টাস্ক ফোর্সের সামরিক ইউনিট ১২টি বসতি দখল করেছে। তবে সংবাদমাধ্যম এএফপি স্বাধীনভাবে এই দাবিগুলো যাচাই করতে পারেনি।

শরৎকালে মস্কোর অগ্রযাত্রার গতি বৃদ্ধি পেলেও, চার বছরের যুদ্ধে রাশিয়া দোনেৎস্ক অঞ্চল দখলের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। মস্কো দাবি করেছে, সংঘাতের অবসানের জন্য যেকোনো চুক্তির জন্য কিয়েভকে দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। তবে এই শর্তগুলো ইউক্রেনের কাছে অগ্রহণযোগ্য।

গেরাসিমভ বলেছেন, মস্কোর সেনারা স্লোভিয়ানস্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একটি শিল্প কেন্দ্র যা ২০১৪ সালে রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে সংক্ষিপ্তভাবে পড়েছিল এবং যা ঘন ঘন রাশিয়ার আক্রমণের শিকার হয়েছে। সেনা বাহিনী শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মস্কো দোনেৎস্ক, লুগানস্ক, জাপোরিঝিয়া এবং খেরসন অঞ্চলকে তাদের নিজস্ব বলে দাবি করে। কিন্তু এটি অন্যান্য ইউক্রেনীয় অঞ্চলেও অগ্রসর হয়েছে। গেরাসিমভ বলেছেন, রাশিয়া উত্তর-পূর্ব সুমি এবং খারকিভ অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি নিরাপত্তা অঞ্চল সম্প্রসারণ করছে, যেখানে এটি কিছু অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে।

সেনাপ্রধান আরও বলেছেন, তিনি ‘দিনিপ্রোপেট্রোভস্ক দিকে আরও পদক্ষেপ’ নেওয়ার বিষয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। রাশিয়ান বাহিনী গত গ্রীষ্মে পশ্চিম দিকে তাদের অগ্রসরতার সময় দিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু ক্রেমলিন কখনও এই অঞ্চলের ওপর আনুষ্ঠানিক দাবি করেনি। রাশিয়ান নেতা ভ্লাদিমির পুতিন বারবার বলেছেন, কূটনীতি ব্যর্থ হলে মস্কো বলপ্রয়োগে পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল দখল করতে চায়।

রাশিয়ার তামান বন্দরে ড্রোন হামলা ইউক্রেনের: রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় তামান বন্দর ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ। এ ঘটনায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। টেলিগ্রামে এক পোস্টে ভেনিয়ামিন কোন্ড্রাটয়েভ জানিয়েছেন, তেলজাত পণ্য, শস্য, কয়লা ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরের ভলনা গ্রামসংলগ্ন অংশে একটি তেল সংরক্ষণ ট্যাংক, গুদামঘর ও কয়েকটি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে সৃষ্ট একাধিক আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০০ জনেরও বেশি কর্মী কাজ করছেন। এছাড়া পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে রিসোর্ট শহর সোচিতে এবং সমুদ্রতীরবর্তী আনাপা শহরের কাছে ইউরোভকা গ্রামেও আঘাত হানা হয়েছে।

তবে সেখানে ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা স্থগিতের সমঝোতা ছিল। তবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেন আবারও রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা জোরদার করেছে।

অন্যদিকে, রাশিয়াও ইউক্রেনের জ্বালানি ও ইউটিলিটি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে, যার ফলে তীব্র শীতের মধ্যে বহু মানুষ বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। রাশিয়ার শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে রয়টার্স জানিয়েছে, গত বছর প্রায় ৪.১৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন তেলজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়েছিল তামান বন্দর দিয়ে।