ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশীদের মৃত্যুর মিছিল থামছে না। অবৈধ পথে স্বপ্নের ইউরোপ যাত্রায় সমুদ্রের নোনা জলে মিশে সলিল সমাধি হচ্ছে শত শত তরুণ, তখন তা একেকটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের করুণ গল্প হয়ে দাঁড়ায়। তাই ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশীদের মৃত্যুর মিছিল এক দীর্ঘস্থায়ী ও হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। এই সংখ্যা গত ১০ বছরে ২ হাজারের বেশি। এদিকে গত রেববার ২৯ মার্চ লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভাসমান একটি নৌকায় থাকা কমপক্ষে ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের দশ জন রয়েছেন বলে এখন পর্যন্ত খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২৬ জনকে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশী। পাচারকারীরা সাধারণত গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষকে ‘ইউরোপের স্বপ্ন’ দেখিয়ে প্রলুব্ধ করে। লিবিয়া বা তিউনিসিয়া পর্যন্ত আকাশপথে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের জিম্মি করা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপর অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় করে তাদের উত্তাল সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এই অবস্থায় গত এক দশকে (২০১৪ থেকে ২০২৪/২৬-এর শুরু পর্যন্ত) ভূমধ্যসাগরে প্রায় ৩০,০০০-এর বেশি মানুষ মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। গত ১০ বছরে ১,৫০০ থেকে ২,০০০-এর বেশি বাংলাদেশীর ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি হয়েছে। তবে নিখোঁজদের অনেকের লাশ কখনোই উদ্ধার না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যাটি আরও অনেক বেশি হতে পারে। ভূমধ্যসাগরে মৃতদের মধ্যে প্রায় ১২% এর বেশি বাংলাদেশী। ২০২৪ সালে ইউরোপে সমুদ্রপথে আসা অনিয়মিত অভিবাসীদের তালিকায় বাংলাদেশীদের অবস্থান ছিল তালিকার শীর্ষে (প্রায় ১৪% থেকে ১৬%)। আইওএম-এর মহাপরিচালক অ্যামি পোপ ২০২৪ সালের মে মাসে জানিয়েছিলেন যে, ওই বছর ভূমধ্যসাগরে মৃতদের মধ্যে প্রায় ১২% ছিল বাংলাদেশী। জাতিসংঘের তথ্য, গ্রিসের বাংলাদেশ দূতাবাস, বামরুক, আইওএম, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর), বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন প্রোগ্রাম, ইনফোমাইগ্রেন্টস ও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে এইসব তথ্য পাওয়া যায়। অভিবাসন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বামরুক-এর মতে, সরকারি হিসাবের চেয়ে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার এটি একটি বড় কারণ। বামরুক-এর বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে যে, গত দুই বছরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষ তিনে অবস্থান করছে।

মৃত্যুর মিছিল: বর্তমানে লিবিয়া এবং তিউনিসিয়া হয়ে ইতালিতে যাওয়ার পথটি (সেন্ট্রাল মেডিটেরানিয়ান রুট) বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিবাসন পথ। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (ওঙগ)-এর তথ্যমতে, গত এক দশকে এই রুটে প্রায় ৩০,০০০ মানুষ নিখোঁজ বা মৃত্যুবরণ করেছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশীদের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ২০২৪ সালের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগরে ৫৬৯ জন মারা যান, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশী। গত রোববার ২৯ মার্চ ২০২৬-এর সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, গ্রিস উপকূলে একটি নৌকাডুবিতে ১৮ জন বাংলাদেশী মারা গেছেন এবং ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২৩ সাল ছিল অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরগুলোর একটি। আইওএম-এর ‘মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রজেক্ট’-এর তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ভূমধ্যসাগরে ৩,১২৯ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এই নিখোঁজ মানুষের মধ্যে কয়েকশ বাংলাদেশী থাকার আশঙ্কা করা হয়।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যে দেখা গেছে, গত ১০ বছরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যেতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন ৩০ হাজার মানুষ। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ৬৩৬ জন, ২০১৪ সালে ৭৭০ জন, ২০১৫ সালে ১৫৫৫ জন, ২০১৬ সালে ১৪৮৫ জন, ২০১৭ সালে ৭৯৫ জন, ২০১৮ সালে ৬৭৭ জনসহ এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন ১২ হাজার ৫৩৯ জন।

ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান বিষয়ক দফতর ইউরোস্ট্যাট-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশী ইউরোপের দেশগুলোতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ১৭ হাজার ২১৫ জন রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলে ১১ হাজার ৭১৫টি আবেদন বাতিল করা হয়। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগর ব্যবহার করে ইতালিতে প্রবেশের হার দিন দিন বাড়ছে। ইউএনএইচসিআর-এর মতে, ভূমধ্যসাগর ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশকারীর সংখ্যায় বাংলাদেশীদের অবস্থান চতুর্থ।

রুট ও মৃত্যুর কারণ: বাংলাদেশীরা সাধারণত লিবিয়া বা তিউনিসিয়া হয়ে ইতালিতে ঢোকার জন্য ‘সেন্ট্রাল মেডিটেরানিয়ান রুট’ ব্যবহার করেন, যা বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন পথ হিসেবে পরিচিত। অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাতটি রুট ব্যবহার করা হয়। এর সবগুলোই লিবিয়া কিংবা তুরস্ক থেকে ইউরোপে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হয়। এ সাত রুটের মধ্যে ‘জনপ্রিয়’ কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরের রুট। তাই দালালের কথায় প্রভাবিত হয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে চলে যান লিবিয়া কিংবা তুরস্ক। সেখান থেকে শুরু হয় ইউরোপ যাওয়ার মূল পর্ব। ইউরোপ যেতে মোট খরচ হিসেবে চাওয়া হয় ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা। সেই টাকা আদায় করা হয় আগেই, এমনকি যাত্রা শুরুর পর শারীরিক নির্যাতন করেও টাকা আদায় করা হয়।

বামরুক এবং আইওএম মতে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলো হলো; অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ছোট রাবার বোট বা কাঠের নৌকা উল্টে যাওয়া। দীর্ঘদিন খাবার ও পানির অভাব (সম্প্রতি গ্রিস উপকূলে মৃত বাংলাদেশীরা ৬ দিন না খেয়ে সাগরে ভাসছিলেন)। পাচারকারীদের নির্যাতন ও অবহেলা। অভিবাসন তথ্যের অভাব ও সামাজিক চাপ। অনেকেই জানেন না যে এই পথটি কতটা বিপজ্জনক। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রতিবেশী বা পরিচিত কেউ ইউরোপে গিয়ে সফল হয়েছে এই সামাজিক চাপ বা ‘পিয়ার প্রেশার’ থেকেও অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথে পা বাড়ান।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, শ্রম অভিবাসনের নামে মানবপাচার প্রতিরোধে সুদান, লিবিয়া ও মিশরে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ভিসা যাচাই-বাছাইয়ে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া আছে। এছাড়া ভিজিট ভিসার নামে বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের জন্য থেকে যাওয়া বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে বলেন, সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। সচেতন থাকলে প্রতারিত হওয়ার সুযোগ কম।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এই থেকে আমাদের প্রতিয়মান হয় যে আমরা কতো ভালনারেবল অবস্থায় আছি। এই যে স্মাগলাররা তাদের একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখানে হওয়া উচিত এবং আমার মন্ত্রণালয়কে আমি আজকে সকালে বললাম যে এটা আইডেন্টিফাই করা যায় কিভাবে, যে কারা এটা করছে। এখানে লিবিয়ার লোকজনও আছে, বাংলাদেশের লোকজনও আছে। এটা আইডেন্টিফাই করে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের শাস্তি হোক বা বাংলাদেশী আইনের শাস্তি তাদেরকে শাস্তি আওতায় আনতে হবে। আরো দুর্ভাগ্যজনক কি পরিমাণ এরা অমানবিক এবং ক্রিমিনাল হলে এবং যখন এটা তারা হয়তো ভেবেছিল একদিন দুইদিনে তারা সাগর পার হয়ে যাবে কিন্তু লেগেছে ছয় থেকে সাত দিন এবং ছয় থেকে সাত দিনের খাবার তাদের সঙ্গে ছিল না, পানি ছিল না, কিছুই ছিল না। অমানবিক অবস্থায় কিছু লোক জাহাজে যারা মারা গিয়েছিল তাদের ফেলে দেওয়া হয়েছে পানিতে।

তিনি বলেন, আমাদের একটু সময় লাগবে কারণ এখন আমাদের ওখানে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছে। কারণ কিছু রুলস এন্ড রেগুলেশনস এর মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যখন এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটে তখন প্রত্যেক দেশে সরকারি সেন্সিটিভ হয়ে যায়। এখন আমাদের এখন প্রথম কাজ হচ্ছে যে বাংলাদেশী যারা বেঁচে গেছে তাদের অবস্থা কি জানান তারা ক্যাম্পে কি অবস্থায় আছে তাদের আইডেন্টিফিকেশনটা আমাদের দরকার। প্রথমত আমাদের জানতে হবে যে প্রত্যেকটা আইডেন্টিফিকেশন কারেক্ট নাকি। জানার পরে ক্যাম্পে তাদেরকে ফিরিয়ে আনার। নেক্সট স্টেপ হচ্ছে তাদেরকে ফিরিয়ে আনার।

এই মিছিল থামানোর সম্ভাব্য উপায় সম্পর্কে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অভিবাসনের সঠিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রচারণা চালানো। যারা দেশের ভেতর থেকে এই চক্র পরিচালনা করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সরকারিভাবে কম খরচে এবং বৈধ উপায়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে (যেমন: ইতালি বা গ্রিস) দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি করা। পাচারকারীদের খপ্পরে না পড়ার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি ভিত্তিক নজরদারি বাড়ানো। তিনি বলেন, একটি অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক সময় নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার বছরের পর বছর প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষায় থাকে, কিন্তু সমুদ্র থেকে মৃতদেহ উদ্ধার না হওয়ায় তারা শেষবারের মতো বিদায়টুকুও জানাতে পারে না।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হওয়ার কারণ দুটি বলে মনে করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক এবং বাংলাদেশ পরিস্থিতির কারণে থামছে না ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়া। এই মুহূর্তে লিবিয়াতে অস্থিতিশীলতার সুযোগে বহু মানবপাচারকারী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। অস্থিতিশীলতার কারণে অরক্ষিত হয়ে আছে লিবিয়ার সীমান্তগুলো। সে কারণে আন্তর্জাতিক মানবপাচারচক্র ইউরোপে ঢোকার জন্য এই জায়গা ব্যবহার করছে। তাছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উদ্বাস্তুরাও এই পথ দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছে।’

বাংলাদেশীরা কেন এদের সঙ্গে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে শরিফুল হাসান বলেন, ‘ইতালিতে প্রবেশ করা মানে হচ্ছে ইউরোপের ২৬টি দেশে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া। প্রত্যেকেই চিন্তা করে হয়তো বেঁচে যাব। বাংলাদেশীদের এই যে একটা মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা-‘ যে কোন মূল্যে বিদেশ চলে যাব’ এটা যদি ভাঙ্গা না যায় তাহলে এটা বন্ধ করা সম্ভব না। কারণ ইউরোপ আগের অবস্থায় নেই। অবৈধভাবে গেলে কাজ পাওয়া যায় না। তাই এই বার্তা সবার কাছে পৌঁছানো উচিত যে কাগজপত্র ছাড়া ইউরোপে গেলে হয় জেলে যেতে হবে নতুবা ফেরত আসতে হবে। শরিফুল হাসান বলেন, ইউরোপের পথে কিন্তু গরিব মানুষ যায় না। কারণ এতে ৮/১৪ লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়। যারা যায় তাদের আর্থিক অবস্থা একেবারে খারাপ না। যারা এতো টাকা খরচ করে এভাবে ইউরোপ যায় তারা কিন্তু চাইলে দেশে ওই টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা করতে পারে।

ভূমধ্যসাগরে লাশ ফেলে দেওয়া ব্যক্তিদের ১২ জন সুনামগঞ্জের: লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময়ে পথ হারিয়ে নৌকায় মারা যাওয়া ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। এ তথ্য জানিয়েছে সুনামগঞ্জের পুলিশ। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার বলেন, তাঁরা এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এর মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন আছেন। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, যেসব দালালের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করবে জেলা প্রশাসন। মৃত ব্যক্তিদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। আর যাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের রাখা হয়েছে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে। মারা যাওয়া ২২ জনের মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের। তাঁদের পরিচয় মিলেছে।

৬ মার্চ ভূমধ্যসাগর নৌকায় পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছান হবিগঞ্জের এক যুবক। তাঁকে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। ২৭ মার্চ উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদেরও একই ক্যাম্পে রেখেছে দেশটির কোস্টগার্ড।