সিএনএন, বিবিসি, আল-জাজিরা : সুইজারল্যান্ডের ক্র্যানস-মন্টানা শহরের একটি বারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৪০ জন মারা গেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আহতের সংখ্যা শতাধিক। তবে পুলিশ বা সুইস কর্তৃপক্ষ এখনও কতজন মারা গেছেন, তা নিশ্চিত করেননি। স্থানীয় সময় রাত ১টার পর লাক্সারি কনস্টেলেশন বার-এ এই বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। বহু মানুষ আতঙ্কের মধ্যে পড়ে যায়।

স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র গায়েতাঁ লাথিওঁ বলেন, ‘ভবনের ভেতরে শতাধিক মানুষ ছিলেন। বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ মারা গেছেন।’ তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সুইস দৈনিক ব্লিক ঘটনাস্থলের এক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ডজনের মধ্যে হতে পারে। অবশ্য আঞ্চলিক দৈনিক লে নুভেলিস্ত জানিয়েছে, তাদের সূত্র অনুযায়ী নিহত প্রায় ৪০ জন এবং আহত প্রায় ১০০ জন হতে পারেন। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য একটি রিসেপশন সেন্টার ও হেল্পলাইন চালু করেছে সুইস সরকার। পুলিশ এই ঘটনা কেন এবং কিভাবে ঘটেছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশের মুখপাত্র গায়েতান লাথিওন জানান, ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন চলাকালে স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে লে কনস্টেলেশন নামক একটি বারে আগুনের সূত্রপাত হয়। গায়েতান লাথিওন বলেন, ওই সময় ভবনটির ভেতরে শতাধিক মানুষ ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে অনেক মানুষ হতাহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরণের খবর এলেও পুলিশ জানিয়েছে, আগুনের প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। তদন্ত কেবল শুরু হয়েছে। ক্রানস-মন্টানা একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে প্রচুর পর্যটক ছিলেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএস-কে একটি মেডিক্যাল সূত্র জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের শিকার দগ্ধ রোগীদের চাপে ফ্রেঞ্চভাষী অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য একটি সহায়তা কেন্দ্র ও হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। বিখ্যাত ম্যাটারহর্ন পাহাড় থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার উত্তরে সুইজারল্যান্ডের আল্পসের হৃদপিণ্ডে অবস্থিত এই ক্রানস-মন্টানা রিসোর্ট। সুইস গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, দাউদাউ করে জ্বলছে একটি ভবন এবং পাশেই জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কাজ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পুরো এলাকাটি বর্তমানে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে এবং ক্রানস-মন্টানার ওপর দিয়ে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা (নো-ফ্লাই জোন) জারি করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে।