যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে নাইজার। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, আপাতত কোনো মার্কিন নাগরিকই নাইজারের ভিসা পাবেন না।
এ সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নাইজারের নাগরিকদের ওপর নতুন প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিক্রিয়ায়।
নাইজার নিউজ এজেন্সি (এএনপি) জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়া সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের নাইজারে প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এএনপির প্রতিবেদনে কূটনৈতিক একটি সূত্র জানায়, এই সপ্তাহ থেকেই পদক্ষেপগুলো কার্যকর হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, পারস্পরিকতার নীতিতেই এই সিদ্ধান্ত—যা নাইজারের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় অবস্থান এবং রাজধানী নিয়ামির পররাষ্ট্রনীতিতে দৃষ্টিগোচর পরিবর্তনের সংকেত দেয়।
কর্মকর্তারা বলছেন, এটি নাইজারীয় নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের জবাবে নেওয়া দৃঢ়, তবে সংযত একটি প্রতিক্রিয়া।
এই পাল্টা পদক্ষেপ এলো গত ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত এক ঘোষণার পর। ওই ঘোষণায় যেসব দেশের নাগরিকদের ওপর সম্পূর্ণ বা আংশিক প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে, সেই তালিকা বাড়িয়ে প্রায় ৪০টি দেশে নেওয়া হয়। ঘোষণাটি অনুযায়ী, এসব ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
নাইজার সেই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যাদের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে জানায়নি, কোন শর্তে নাইজারীয় নাগরিকরা আবার ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা ফিরে পেতে পারেন।
তালিকায় নাইজারের অন্তর্ভুক্তি দেশটির ভেতরে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জোরদার করেছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি