ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর আইআরজিসি তাদের অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪'-এর ৩৭তম ধাপকে চলমান যুদ্ধের মধ্যে এ পর্যন্ত সবথেকে ভয়াবহ এবং শক্তিশালী আক্রমণ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সর্বশেষ দফায় ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা এবং অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে ভারী ওয়ারহেডসহ ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে, মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে তারা শক্তিশালী 'খোররামশাহর-৪' ক্ষেপণাস্ত্রের মাল্টি-লঞ্চ স্ট্রাইক ব্যবহার করেছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয়বারের মতো তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত হায়েলা স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সেন্টারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিয়ার ইয়াকভ, আল-কুদস এবং হাইফার বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান। কেবল ইসরায়েল নয়, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের ইরবিলে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তু এবং বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হেনেছে ইরানি বাহিনী। আইআরজিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা পূর্ণ বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত হামলার তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বাড়িয়েই চলবে।
এদিকে এই হামলার আঞ্চলিক প্রভাবও বেশ লক্ষ্যণীয় হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা তাদের আকাশসীমায় আসা বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিহত করেছে। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণের কিছু অংশ ড্রোন হামলায় এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা আর মেরামত করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো তেল আবিবের কাছের একটি সামরিক ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাতের খবর নিশ্চিত করেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে স্যাটেলাইট ইমেজিং কোম্পানি 'প্ল্যানেট ল্যাবস' তাদের ছবি ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যেন মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জনসমক্ষে না আসে।
সূত্র: আল মায়াদিন