ইসরায়েলি হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। শনিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসছে—এমনটি শনাক্ত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় বলে জানিয়েছেটাইমস অব ইসরায়েল। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে হোম ফ্রন্ট কমান্ড-এর নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনারা জানায়, পরিস্থিতি অনুযায়ী হুমকি প্রতিহত ও নিষ্ক্রিয় করতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি অপ্রবেশযোগ্য নয়। তাই নাগরিকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি।
এদিকে ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্স-কে বলেছেন, ইরান এর ‘ভয়াবহ জবাব’ দেবে। পাশাপাশি ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “আমরা আগেই আপনাদের সতর্ক করেছিলাম।” তিনি আরও লেখেন, “এখন আপনারা এমন একটি পথে পা বাড়িয়েছেন, যার শেষ আর আপনাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।”
এর আগে শনিবার ইসরায়েল জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্বপ্রস্তুতিমূলক হামলা’ চালিয়েছে। এই ঘটনার ফলে পশ্চিমাদের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
**নিউইয়র্ক টাইমস** এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, ইরানের ওপর চালানো হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও জড়িত ছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-কে রাজধানী তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্বীকার করেছে, শনিবার তেহরানে খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-কে লক্ষ্য করে হত্যাচেষ্টাও করা হতে পারে। খামেনিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জুমহুরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। পাশাপাশি সৈয়দ খান্দান এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, গত জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী বিমানযুদ্ধের পর এই নতুন করে সংঘাত শুরু হলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল—ইরান যদি তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নেয়, তাহলে আবারও হামলা চালানো হবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ইসরায়েলের ওপর হুমকি দূর করতেই ইরানের বিরুদ্ধে এই পূর্বপ্রস্তুতিমূলক হামলা চালানো হয়েছে।
একজন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন-এর সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েক মাস ধরেই এই অভিযানের পরিকল্পনা চলছিল এবং কয়েক সপ্তাহ আগেই হামলার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।