যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান-এ একটি হাসপাতালে ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জন চিকিৎসাকর্মী। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)-এর বরাতে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

এমএসএফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার হোয়াইট নাইল প্রদেশের আল জাবালাইন হাসপাতালে পরপর দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ও মাতৃসেবা বিভাগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংস্থাটির দাবি, আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এ হামলা চালিয়েছে।

সুদানে এমএসএফের জরুরি বিভাগের প্রধান এসপেরাঞ্জা সান্তোস বলেন, এই অগ্রহণযোগ্য হামলায় অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে সংস্থাটির সাবেক সহকর্মীরাও ছিলেন। তিনি জানান, হামলার সময় হাসপাতালে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি চলছিল, যা ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।

চলমান সংঘাতের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে এ ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

এদিকে, একই দিনে হোয়াইট নাইল প্রদেশের রাজধানী রাবাকে একটি চিকিৎসা সরঞ্জাম গুদামেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দক্ষিণ করদোফান, ব্লু নাইল ও দারফুর অঞ্চলে ড্রোন হামলার পুনরাবৃত্তি মানুষের বাস্তুচ্যুতি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সুদানে ২০০টির বেশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা হয়েছে। গত মাসে দারফুর অঞ্চলে একটি হাসপাতালে হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ১৩ জন শিশু ছিল।

সুদানের সরকারের এক মন্ত্রী এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আরএসএফকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধেও এই সংঘাতে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে।