সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। শহরের শেখ মাকসুদ এলাকায় সিরীয় সেনাবাহিনীর ব্যাপক অভিযান ও তল্লাশির ফলে পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সহিংসতার জেরে গত কয়েক দিনে আলেপ্পোর আশরাফিয়া ও শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে অন্তত ১ লাখ ৬২ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জরুরি সেবাপ্রধান মোহাম্মদ আল-রাজাব।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, সিরীয় সামরিক বাহিনী শেখ মাকসুদ এলাকার প্রায় ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুর্দি যোদ্ধাদের এলাকা ছাড়ার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই সেনাবাহিনী অভিযান জোরদার করে। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এসডিএফ-এর একীভূতকরণ চুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয় বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

সংঘাত শুরুর আগে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে কুর্দি যোদ্ধাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ফিরে যাওয়ার জন্য ছয় ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। তবে আলেপ্পোর কুর্দি কাউন্সিল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এর পরই সেনাবাহিনী শেখ মাকসুদ এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলা শুরু করে।

এসডিএফ অভিযোগ করেছে, সরকারি বাহিনী একটি হাসপাতালেও হামলা চালিয়েছে, যাকে তারা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই হাসপাতালটি অস্ত্রাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ জন নিহত এবং ১৭৩ জন আহত হয়েছেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যে আলেপ্পোতে এটিই সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা।

আহমেদ আল-শারা’র নেতৃত্বাধীন সিরীয় সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে থাকা কুর্দি বাহিনীকে মূল সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। গত বছরের মার্চে এ বিষয়ে একটি চুক্তি হলেও বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক সিরীয় সরকারের পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার বলেছেন, সিরিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়াই তুরস্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শর্ত।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রও পরিস্থিতি শান্ত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে সিরিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, আলেপ্পোতে ‘অবৈধ সশস্ত্র উপস্থিতি’ নির্মূলে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।