২৪ মার্চ রয়টার্স : যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিলের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ এনেছে দেশটির সরকার। ভিসা আবেদনপত্রে ওই শিক্ষার্থী জাতিসংঘের ফিলিস্তিনী ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-তে কাজ করার তথ্য সংযুক্ত করেননি বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাসিত করার জন্য এই কারণই যথেষ্ট। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা এ খবর জানিয়েছে। ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনে জড়িত থাকায় ইতোমধ্যেই আইনি জটিলতার চক্রে আটকে যাওয়া খলিলের নির্বাসন মামলার একটি নথি গত রোববার প্রকাশিত হয়।

১৭ মার্চের ওই নথি যাচাই করে রয়টার্স দেখেছে, ২০২৩ সালে ইউএনআরডব্লিউএ-তে রাজনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন খলিল। কেবল এই তথ্য প্রকাশ না করার কারণেই তাকে মার্কিন মুলুক থেকে বহিষ্কার করা যাবে বলে খলিলকে অবগত করেছে প্রশাসন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলাকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত হয়ে পড়ে ইউএনআরডব্লিউএ। ওই হামলায় সংস্থাটির ১২ জন কর্মী জড়িত ছিল বলে অভিযোগ তোলে ইসরাইল। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ত্রাণ সংস্থাটির জন্য সহায়তা স্থগিত করে দেয় হোয়াইট হাউজ।

গত আগস্টে জাতিসংঘ জানায়, তদন্তের পর হামাসের হামলায় ৯ জন কর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন গত ৮ মার্চ খলিলকে আটক করে লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে পাঠিয়ে দেয়। তাকে দ্রুত দেশ থেকে বের করে দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া যাচাই করা হচ্ছে।

তবে এই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বাকস্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খলিলের সমর্থকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইল নীতি ও গাজায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনসম্মুখে কথা বলার জন্যই তাকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এদিকে, খলিল নিজেকে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে অভিহিত করছেন।

মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খলিলের উপস্থিতি ও কর্মকা- তাদের পররাষ্ট্রনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবে তার বহিষ্কারকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলার রায় আসার আগ পর্যন্ত খলিলকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন এক বিচারক।

এ বিষয়ে খলিলে আইনজীবীদের কাছ থেকে কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ানতে পারেনি রয়টার্স। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিলের এক আইনজীবী রামি কাসীম বলেছেন, খলিলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল ও এগুলো উদ্দেশ্যমূলক। সরকার শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ জড়ো করার চেষ্টা করছে। ফিলিস্তিনীদের পক্ষে কথা বলার দায়েই তিনি এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।