দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীদের জন্য অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে তাদের সেই প্রত্যাশা কবে পূরণ হবে—তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশির ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিকল্পনা আপাতত স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়ছে। এমনকি যাঁরা বৈধভাবে গ্রিন কার্ড বা মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাঁরাও নতুন করে আতঙ্কে ভুগছেন। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন আগের গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বগুলো পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণাও দিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি। প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অনেক অভিবাসী কর্মসংস্থানে যুক্ত না হয়ে সরকারি সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সরকারি এসব সুবিধা গ্রহণ করেন। ফলে এখন থেকে নতুন অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। আগে যারা আত্মীয়-স্বজনদের স্পন্সর করে যুক্তরাষ্ট্রে এনেছেন এবং তারা যদি সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে তার দায়ভার স্পন্সরের ওপর পড়তে পারে। পর্যাপ্ত আয় না থাকলে কিংবা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।
এ ছাড়া পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনাকারীদের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে। পড়াশোনা শেষে চাকরি খোঁজার জন্য যে নির্দিষ্ট সময়সুবিধা আগে পাওয়া যেত, তা এখন আরও জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে।
যারা স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছেন, ভিসা স্থগিতের কারণে তাদের দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তায় কাটাতে হবে। এছাড়া, যারা বর্তমানে গ্রিন কার্ডধারী কিন্তু ছুটিতে বাংলাদেশে আসতে চান, তারাও এখন দেশে ফিরতে দ্বিধাবোধ করছেন। কারণ একবার দেশ ছাড়লে বর্তমান পরিস্থিতিতে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে কোনো আইনি জটিলতায় পড়তে হয় কিনা, সেই ভয় তাদের তাড়া করে ফিরছে।
এই স্থগিতাদেশ মূলত অভিবাসন বা ইমিগ্রেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে পর্যটন, ব্যবসায়িক ভ্রমণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসাগুলো এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ, সাধারণ দর্শনার্থী বা বর্তমান শিক্ষার্থীদের চলাচলে এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা ভিসার জন্য আবেদন বা সাক্ষাৎকার দিতে পারলেও, স্থগিতাদেশ চলাকালীন তাদের অনুকূলে কোনো নতুন অভিবাসন ভিসা ইস্যু করা হবে না। এছাড়া দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-ওয়ানবি ভিসার খরচও আগের চেয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগকে আরও সংকুচিত করেছে।