ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)–সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) জানিয়েছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে দক্ষিণ ইয়েমেনকে স্বাধীন রাষ্ট্রে রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। নতুন রাষ্ট্রের সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘দক্ষিণ আরবিয়া’।
এই ঘোষণা দেওয়ার দিনই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় দক্ষিণ ইয়েমেনে অন্তত ২০ জন নিহত হন। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রযাত্রা ঠেকাতেই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি।
এসটিসির সামরিক ও চিকিৎসা সূত্র জানায়, হাদরামাউত অঞ্চলের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে একটি বিমানবন্দর ও কয়েকটি সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনার পেছনে মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্য কাজ করছে। বিশেষ করে এসটিসির সাম্প্রতিক এলাকা দখল অভিযান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এসটিসির প্রেসিডেন্ট আইদারোস আলজুবাইদি বলেন, স্বাধীনতার আগে একটি রূপান্তরকালীন সময় থাকবে। এ সময় উত্তর ইয়েমেনের সঙ্গে সংলাপ এবং স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংলাপ ব্যর্থ হলে বা দক্ষিণে নতুন হামলা হলে দ্রুত স্বাধীনতা ঘোষণা করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত ইয়েমেন ছিল উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই অংশে বিভক্ত। এসটিসির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘ তিন দশক পর দেশটি আবারও বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, এসটিসি দখল করা দুটি প্রদেশ থেকে সরে না আসা পর্যন্ত হামলা বন্ধ করা হবে না। অন্যদিকে ইউএই বলছে, তারা ইয়েমেন থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে এবং সংলাপের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী।
দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে ক্লান্ত ইয়েমেনে নতুন এই উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।