পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্বে আর্টেমিস-২ চার নভোচারীরা অবস্থান করছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) গ্রিনিচ মান সময় ১৫টা ৫৮ মিনিটে ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার রেকর্ড পথ অতিক্রম করেন।

এর আগে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩ এর এক মিশনের মাধ্যমে এ রেকর্ড তৈরি হয়েছিল, যা ভাঙলো আর্টেমিস-২। চাঁদের দূরবর্তী পাশ ঘুরে ভ্রমণরত এই মিশনটি গ্রিনিচ মান সময় ২৩টা ৭ মিনিটে পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার সর্বোচ্চ দূরত্বে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

মিশনটি চাঁদের চারপাশে একটি ফ্লাইবাই (নিকট দিয়ে ঘুরে যাওয়া) সম্পন্ন করবে, যে সময় নভোচারীরা ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চাঁদের পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ ও নথিভুক্ত করবেন। এরপর ওরিয়ন ক্যাপসুল ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি’ পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঐতিহাসিক চন্দ্র ফ্লাইবাই শেষে কথা বলেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা। সেই আলাপচারিতায় তারা মহাকাশযাত্রার কিছু অসাধারণ মুহূর্ত তুলে ধরেন।

মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান জানান, চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছে পৃথিবী থেকে বহুদিন ধরে দেখা পরিচিত দৃশ্যগুলো একেবারে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা ছিল অনন্য। তিনি বলেন, তারা এমন কিছু চন্দ্রপৃষ্ঠও দেখেছেন, যা আগে কোনো মানুষ দেখেনি।

উইজম্যান আরও জানান, চাঁদ থেকে সূর্যগ্রহণ দেখা এবং দূরে মঙ্গল গ্রহকে দেখতে পাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল রোমাঞ্চকর ও বিরল।

নভোচারীরা বলেন, মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা অত্যন্ত আশাবাদী। তাদের ভাষায়, ‘আমরা সবাই উচ্ছ্বসিত এই ভেবে যে, একদিন মানবসভ্যতা দুই গ্রহে বসবাসকারী প্রজাতিতে পরিণত হবে।’

এ সময় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি-এর যৌথ অংশীদারিত্বের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।

আলাপের শেষে ট্রাম্প বলেন, তিনি শিগগিরই এই চার নভোচারীকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানাতে চান এবং তাদের অটোগ্রাফ নেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণত অটোগ্রাফ চাই না, কিন্তু তোমরা সেটার প্রাপ্য।’