রুশ জ্বালানি তেল ক্রয় নিয়ে দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হয়ে পড়ছে। এবার রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতকে ‘মোদির যুদ্ধ’ তকমা দিলেন মার্কিন বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাভারো বলেন, ভারতের কারণে আমেরিকার সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভোক্তা, ব্যবসায়ী, শ্রমিক- সবার চাকরি ও আয় ঝুঁকির মুখে পড়ছে। আর করদাতাদের টাকায় আমাদের ‘মোদির যুদ্ধ’ চালাতে হচ্ছে।
‘পুতিনের যুদ্ধ’ বলতে গিয়ে ভুলে ‘মোদির যুদ্ধ’ বলেছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, আমি মোদির যুদ্ধ বলেছি। কারণ (ইউক্রেনে) শান্তির প্রতিষ্ঠার একটা গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ দিল্লি।
বুধবার ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকরের পরই এমন মন্তব্য করেন নাভারো। রাশিয়া থেকে অস্ত্র ও জ্বালানি তেল কেনার জন্য বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেওয়ায় অংকটা এত চড়া পর্যায়ে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধ পরিচালনার জন্য মস্কোর প্রধান অর্থের উৎস হলো এই জ্বালানি রফতানি খাত। তাদের যুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল কিনে যুদ্ধ পরিচালনায় পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে ভারতের মতো দেশগুলো।
ভারত এই শুল্ককে অন্যায্য দাবি করে জানিয়েছে, তারা তেল কেনা কমাবে না। ১৪০ কোটির বেশি (ভারতের জনসংখ্যা) মানুষের স্বার্থ রক্ষায় তেল ক্রয়ে সেরা দর নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়া থেকে ভারতের তেলের সরবরাহ ছিল ২ শতাংশেরও কম, বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে, যা ভারতের প্রধান তেল সরবরাহকারী হিসেবে রাশিয়ার অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
মোদি সরকারের সমালোচনা করে নাভারো বলেছেন, সার্বভৌমত্বের দোহাই দিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো জ্বালানি বিক্রেতা নির্ধারণ করছে ভারত। তারা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ হলে, আচরণটাও সেরকম হওয়া উচিত।
এদিকে, ভারতের অভিযোগ, রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক চীন কিংবা রাশিয়ার সঙ্গে এখনও বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর এমন বাড়তি শুল্ক আরোপ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এই কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ির মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশ ভারত এবং সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত একটা সমঝোতায় পৌঁছাবে বলেই আমার বিশ্বাস।
বাড়তি শুল্কের প্রভাব মোকাবিলায় ভারত সরকার ইতোমধ্যেই তৎপর হয়েছে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে রফতানিতে এর প্রভাব সীমিত থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মোদি শুল্কজনিত প্রভাব কমাতে কর ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
বুধবার প্রকাশিত জুলাই মাসের অর্থনৈতিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা এই সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।