আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে কুয়ালালামপুরে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ সম্মেলন আজ সমাপ্ত হয়েছ।

আজকের আসিয়ান সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্যে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান বলেছেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আসিয়ানকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। তার ভাষায়, লক্ষ্য শুধু উত্তেজনা প্রশমন নয়; বরং বিরোধে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা গড়ে তোলা এবং মতপার্থক্য সত্ত্বেও সংলাপের পথ খোলা রাখা জরুরি।

সম্মেলন সমাপ্ত হলেও আসিয়ানের দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং সীমান্তে নতুন করে গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সীমান্তের একাধিক পয়েন্টে সংঘর্ষ ও ভারী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উভয় পক্ষই তুলেছে, যা আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টাকে নতুন করে চাপে ফেলেছে।

উল্লেখ্য, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধ নিরসন এবং উত্তেজনা কমাতে গত অক্টোবর মাসে কুয়ালালামপুরে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে, পরের মাসে তা স্থগিত হয়ে যায়।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও সোমবার বলেছেন, কম্বোডিয়ার সঙ্গে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘাত নিরসনে গত অক্টোবরে যে চুক্তি হয়েছিল, সেটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে ওয়াশিংটনের চাপে তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন হয়েছিল। কুয়ালালামপুর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তবে আগামী বুধবার থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার কর্মকর্তারা যৌথ সীমান্ত কমিশন (জয়েন্ট বাউন্ডারি কমিটি—জেবিসি) কাঠামোর আওতায় বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও। এই কমিশন দুই দেশের বিতর্কিত স্থলসীমান্ত জরিপ, সীমানা নির্ধারণ ও আলোচনার জন্য বিদ্যমান একটি দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া। তিনি বলেছেন, বৈঠকটি আগামী ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি কম্বোডিয়ার প্রস্তাবেই নির্ধারিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি কোনো ঘোষণার মাধ্যমে নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমেই কার্যকর হতে হবে।

থাইল্যান্ডের অবস্থান হলো, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হলে প্রথমে কম্বোডিয়াকে গোলাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে। থাই কর্তৃপক্ষের দাবি, সংঘাতের এই পর্বে প্রথম গুলি চালিয়েছে কম্বোডিয়াই—যা নম পেন অস্বীকার করে আসছে। কম্বোডিয়ার পাল্টা অভিযোগ, থাইল্যান্ড আগ্রাসী সামরিক তৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে।

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সম্মেলন শেষে সংলাপ চালু রাখার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াকে সংলাপ, প্রজ্ঞা ও পারস্পরিক সম্মানের চেতনা বজায় রাখতে হবে, যাতে উত্তেজনার অবসান ঘটে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়। তিনি জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে তিনি উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

এছাড়া বারনামা ও আলজাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় দেশকে শত্রুতা বন্ধ, ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার, স্থলমাইন অপসারণ এবং কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।