ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো বা তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব থাকা সকল জ্বালানি স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ড 'খাতাম আল-আনবিয়া' জানিয়েছে, দেশটির জ্বালানি খাতে হামলা চালানো হলে তারা আর কোনো সংযম দেখাবে না এবং পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে "ভস্মীভূত" করে দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সংঘাত ও হামলা:
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের তেল অবকাঠামো, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র এবং আসালুয়েহ শিল্প এলাকায় হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া খার্গ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও বিমানবন্দরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
সাউথ পার্সে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইতোমধ্যেই কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কাতারের রাস লাফান এবং ইউএই-র হাবশান গ্যাস ফিল্ড অন্যতম।
হামলার আশঙ্কায় ইরান সৌদি আরবের স্যামরেফ শোধনাগার এবং জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সসহ কাতারের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে কর্মীদের সরে যাওয়ার (Evacuation) নির্দেশ দিয়েছিল।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব:
তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে এবং যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে গ্যাসের দাম হঠাৎ লাফিয়ে বেড়েছে।
সরবরাহে বিঘ্ন: কাতারের রাস লাফান কেন্দ্রটি বিশ্বের মোট এলএনজি (LNG) সরবরাহের ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। সেখানে হামলার ফলে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে এলএনজি আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী:
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে শত্রু দেশগুলোর জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে, যা বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করে।