চলতি বছরের ৩০ মে, শনিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম বড় শহর নাবাতিহের উপকণ্ঠে পৌঁছেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত কয়েক দিন ধরে চলা অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী লিটানি নদী অতিক্রম করে অঞ্চলটির বেশ কয়েকটি গ্রামে অবস্থান নিয়েছে। এই অগ্রযাত্রা লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। এদিকে, সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এলাকাগুলো থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে নতুন করে উচ্ছেদের নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রসারিত হচ্ছে। লেবাননের সামরিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, নাবাতিহ শহরের কাছাকাছি ‘জাওতার আল-শারকিয়াহ’ এবং ‘শকিব আরনুন’-এর মতো এলাকায় ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতি দেখা গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তারা লেবাননের অভ্যন্তরে তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনে গভীরতর পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। যদিও এপ্রিল মাসে মার্কিন মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছিল, তবে বাস্তব ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি এবং উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে।

লেবাননের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে তাদের অবস্থান থেকে সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে যাতে কর্মীদের প্রাণহানি এড়ানো যায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৩,৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। একদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর এই অগ্রসরতা এবং অন্যদিকে হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট হামলার কারণে দক্ষিণ লেবাননের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত শুক্রবার দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার পরও যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি।