ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (২৯ মার্চ) ৩০তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক বৈঠকে বসেছেন কয়েকটি আঞ্চলিক পরাশক্তির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। আজ রোববার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন 'পিটিভি'-তে দেখা গেছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার তার দপ্তরে মিশরের বদর আবদেল আতি, তুরস্কের হাকান ফিদান এবং সৌদি আরবের যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহানকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বৈঠকে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। সংঘাতের অবসানে কীভাবে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন এই চার দেশের প্রতিনিধিরা।
রোববারের এই বৈঠকের ঠিক একদিন আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন। কর্মকর্তারা এই আলাপচারিতাকে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর একটি 'বিস্তৃত আলোচনা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কর্মকর্তারা ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই সম্ভাব্য স্থল অভিযানটি কোনো 'পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ' হবে না। এর পরিবর্তে বিশেষ বাহিনী (স্পেশাল ফোর্সেস) এবং 'সাধারণ পদাতিক বাহিনী'র মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান বা রেইড চালানো হতে পারে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পেন্টাগনের এই পরিকল্পনার কতটুকু অনুমোদন দেবেন বা আদৌ দেবেন কি না, সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।