গাজার রাফাহ শহরের একটি ত্রাণ বিতরণ পয়েন্টে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩০ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ১২০ জনেরও বেশি। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে এই হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, এই ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রটি যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছিল। মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা গাজায় এমন হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

জাতিসংঘ জানায়, গাজা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক খাদ্য-সংকটের অঞ্চল। পুরো অঞ্চলের জনগণ এখন দুর্ভিক্ষের মারাত্মক ঝুঁকিতে। গত কয়েকদিনে অনুমোদিত ৯০০ ত্রাণবাহী ট্রাকের মধ্যে মাত্র ৬০০টি প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে গাজায়।

অন্যদিকে ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, জর্ডানে ২ লাখ মানুষের জন্য এক মাসের খাদ্য মজুদ থাকলেও তা নিরাপত্তাজনিত জটিলতায় আটকে আছে। ত্রাণ বিতরণে নতুন এক ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন একটি বেসরকারি সংস্থা ইসরায়েলি সহযোগিতায় কাজ শুরু করলেও এতে করে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

হামাস এই ব্যবস্থাকে ‘একটি পরিকল্পিত মানবিক প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছে এবং দাবি করেছে, ইসরায়েল খাদ্য সরবরাহকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে যেন অবিলম্বে ত্রাণ সরবরাহ নিরাপদ হয় এবং ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করা যায়।

এই ঘটনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ হামাসের কাছে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন, যার বিপরীতে হামাস একটি ধাপে ধাপে বন্দি বিনিময়ের ও যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রস্তাব দেয়। তবে মার্কিন দূত এটিকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চ থেকে ত্রাণ প্রবেশে বাধা ও টানা ইসরায়েলি আক্রমণের কারণে গাজায় অপুষ্টি ও মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান গাজা সংকটে ইতোমধ্যেই নিহতের সংখ্যা ৫৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, আর আহত হয়েছেন এক লাখ ২৪ হাজারের বেশি মানুষ।