যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে কারাকাস থেকে আটক হওয়ার দুই দিন পর নিউইয়র্কের আদালতে তোলা হয়েছে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং নিজের প্রেসিডেন্ট পদকে বৈধ বলে উল্লেখ করেন।

মাদক–সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র ও অর্থপাচারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত মাদুরো আদালতকে বলেন, ‘আমি নির্দোষ। কোনো অপরাধ করিনি।’

আদালত কক্ষে প্রবেশের সময় ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোর পরনে ছিল কমলা রঙের শার্ট ও বেইজ প্যান্ট। দোভাষীর মাধ্যমে তিনি জানান, গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) কারাকাসে নিজ বাড়ি থেকে তাকে ‘অপহরণ’ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমি ভেনেজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট— অথচ আমাকে এখানে বন্দি করে রাখা হয়েছে।’

তবে আদালতে বিচারক তাকে বক্তব্য থামিয়ে কেবল নিজের নাম বলতে বলেন এবং স্পষ্ট করে জানান, তার শাসনকাল এখন ইতিহাস।

মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে আদালত তাদের দুজনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন ১৭ মার্চ। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মাদুরোর সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সেখানে মাদুরোর সাবেক ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোরে মার্কিন কমান্ডোরা বিমান হামলা ও নৌ-বাহিনীর সহায়তায় কারাকাসে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে মাদুরো দম্পতিকে আটক করে। এই অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে। বিশেষ করে দেশটির বিশাল তেল সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আগামী মাসে ভেনেজুয়েলায় কোনো নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আগে দেশটিকে ঠিক করতে হবে। এখন ভোট দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।’

ভেনেজুয়েলার এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিশ্ব বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন, এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসের শেয়ারের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডাও জোন্স ও লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ব্রায়ান নারাঞ্জো সতর্ক করে বলেছেন, ডেলসি রদ্রিগেজের ক্ষমতা দখল নিরঙ্কুশ নয়, কারণ দিওসদাদো কাবেয়ো এবং জর্জ রদ্রিগেজের মতো নেতারা যেকোনো সময় তাকে সরিয়ে দিতে পারেন।

এদিকে ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি কেবল ভেনেজুয়েলাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। তিনি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কিউবা এবং ডেনমার্কের অংশ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণও যুক্তরাষ্ট্র নিতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। কারাকাসের অভিযানে অন্তত ৩২ জন কিউবান নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে হাভানা। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন তাদের কোনো সদস্যের মৃত্যু হয়নি।