থাইল্যান্ডে আজ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির নাগরিকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন। এই গণভোটের মাধ্যমে ২০১৭ সালে সামরিক শাসনামলে প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কি না, সে বিষয়ে মতামত জানাবেন ভোটাররা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন ভূমজাইথাই পার্টিকে রাজতন্ত্র ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হয়। এই গোষ্ঠীগুলোর কাছে দলটি প্রধান ভরসা ও রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত সেপ্টেম্বরে অনুতিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রার মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ ও নৈতিকতা লঙ্ঘনের কারণে পেতংতার্নকে পদত্যাগ করতে হয়। এরপর অনুতিন অনাস্থা প্রস্তাবের মুখে সংসদ ভেঙে দিয়ে ডিসেম্বরে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
নির্বাচনী প্রচারে অনুতিন অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জাতীয়তাবাদী আবেগকে প্রচারণায় গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হলো পেউ থাই পার্টি। দলটি কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা সমর্থিত রাজনৈতিক ধারার উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা থাই রাক থাই পার্টির জনকল্যাণমূলক ও জনপ্রিয় নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি করছে পেউ থাই।
দলটি অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন এবং নগদ সহায়তাসহ নানা জনতাবাদী প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী পদে পেউ থাইয়ের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াত।
এদিকে নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে, তারা ২০১৭ সালের সামরিক শাসনামলে প্রণীত সংবিধান পরিবর্তনের পক্ষে কি না। গণতন্ত্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মতে, নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হলে সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের মতো অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।