বলা হয়েছে, সিমফেরোপোল নামে যুদ্ধজাহাজটি দানিয়ুব নদীর মধ্যে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে। সিমফেরোপোল যুদ্ধজাহাজ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউক্রেনের বৃহত্তম জাহাজ বলে পরিচিত। ২৯শে আগস্ট জাতীয় টেলিভিশনে মুখপাত্র দিমিত্রো প্লেটেনচুক বলেন, ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজে রাশিয়ার হামলার পর ক্রুদের মধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুইজনে দাঁড়িয়েছে। বেশ কয়েকজন নাবিক নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
হামলার সময় এবং স্থানসহ অন্যান্য বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। রেডিও, ইলেকট্রনিক, রাডার এবং অপটিক্যাল দিয়ে সজ্জিত এই জাহাজটি লাগুনা শ্রেণির। এতে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ছিল ৩০ মিমি একে ৩০৬ আর্টিলারি সিস্টেম। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে জানা যাচ্ছে, গতকাল রাতে ইউক্রেনের দাবিউব নদীতে অবস্থিত এক যুদ্ধজাহাজে নৌসেনার কামিকাজি সমুদ্র ড্রোন দিয়ে আঘাত হানা হয়। মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক বিস্ফোরণের সঙ্গে জলসমাধি হয় জাহাজটির।
ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে সেদেশের সংবাদপত্র কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে যে, ‘হামলার পরের পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বেশিরভাগ ক্রু নিরাপদে আছেন এবং নিখোঁজ বেশ কয়েকজন নাবিকের সন্ধান চলছে।’
‘সিম্ফারোপোল’ যুদ্ধজাহাজ ২০১৯ সালে সমুদ্রে নামে। তবে নৌবাহিনীর সেবায় যুক্ত হয় ২০২১ সালে। জাহাজটির মূল কাজ ছিল, গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে নৌবাহিনীর অভিযানে সহায়তা করা। রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা তাস -এর এক প্রতিবেদনে একজন UAV বিশেষজ্ঞ জানান যেএটি ছিল ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর জাহাজকে ধ্বংস করার জন্য সমুদ্র ড্রোনের প্রথম সফল ব্যবহার। যদিও ইউক্রেন কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার নৌবহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে, তবুও ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির খবর অত্যন্ত বিরল। পূর্ণ-মাত্রার যুদ্ধের সময়, রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরে একাধিক বেসামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার মধ্যে বিদেশী জাহাজও রয়েছে।