ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালব্য নগর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন।

আজ বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) দক্ষিণ দিল্লির হাউজ খাস সংলগ্ন হাউজ রানির একটি ঘিঞ্জি ও সরু গলিতে অবস্থিত 'ফ্লুরিশ স্টে' (Flourish Stay) নামের একটি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (B&B) হোটেলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে পাঁচতলা হোটেল ভবনের বেসমেন্টে অবস্থিত ‘লেমন গ্রিন’ রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যারা মূলত চিকিৎসা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ভারতে এসে ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন।

দিল্লি দমকল বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় ভবনটি থেকে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আগুন লাগার সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথিই ঘুমাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন বাসিন্দা হোটেলের ওপরের তলা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ছেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হোটেলটি সরকারের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ স্কিমের আওতায় মাত্র ৬টি কক্ষ পরিচালনার লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছিল। কিন্তু সমস্ত নিয়ম ও অগ্নিনিরাপত্তা বিধি অমান্য করে সেখানে ২৫টি কক্ষ পরিচালনা করা হচ্ছিল।

হোটেলের একজন রাঁধুনির বক্তব্য অনুযায়ী, সকালে রান্নাঘরের একটি বৈদ্যুতিক চুলার সুইচ অন করার পরপরই হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। তবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদ্ঘাটনে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।