২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। অনেকের ধারণা, এমন আক্রমণে একটি দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো দ্রুত ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে এটি এমন তীব্র আঘাত সহ্য করতে সক্ষম।
টিকে থাকার কাঠামোগত প্রস্তুতি
ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে শীর্ষ নেতৃত্ব হারালেও রাষ্ট্র কার্যকরভাবে চলতে পারে। দ্রুত উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া চালু হয়, যার ফলে খবর অনুযায়ী মোজতবা খামেনি তার বাবার স্থলাভিষিক্ত হন।
সামরিক ক্ষেত্রে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)–এর ডিফেন্স কৌশল বিকেন্দ্রীকৃত। অর্থাৎ শীর্ষ কমান্ডে সমস্যা হলে স্থানীয় কমান্ডাররা আগের অনুমোদিত লক্ষ্য তালিকা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে যেতে পারে।
ভৌগোলিক দিক থেকেও ইরান বড়। প্রায় ১৬ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকা ছড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে সহজে বিমান হামলার মাধ্যমে ধ্বংস করা কঠিন।
যুদ্ধ কৌশল ও অর্থনীতি
ইরান সরাসরি বিজয় নয়, বরং ক্ষয়যুদ্ধের কৌশল অনুসরণ করে। কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অনেক বেশি ব্যয় করতে বাধ্য করা হয়। এতে যুদ্ধ তাদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে অস্থির হয়ে ওঠে।
হরমুজ প্রণালীতে সামান্য বিঘ্নও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়াতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ায়। পাশাপাশি, প্রতিবেশী আরব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান বার্তা দিচ্ছে—“আমাদেরকে আক্রমণ করলে তোমাদেরও ঝুঁকি।”
রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি
ইরানের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্ত। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো চাপের মুখে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা এখানে কম। হামলার পর সরকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করেছে, ইন্টারনেট সীমিত করেছে এবং সম্ভাব্য অস্থিরতা দমন করছে।
শেষ বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অবস্থায় ইরানের মূল লক্ষ্য পুরোপুরি জয় নয়, বরং রাষ্ট্রব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। সামরিক ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি, ভৌগোলিক সুবিধা, আর অর্থনৈতিক কৌশল একসাথে মিলে ইরানকে “দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ” সক্ষম করে তুলেছে।
এই যুদ্ধ দেখাচ্ছে, আধুনিক সংঘর্ষ শুধু সেনা ঘাঁটি ধ্বংস নয়, বরং রাষ্ট্রব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, কৌশলগত পরিকল্পনা, ও অর্থনৈতিক ধৈর্যের লড়াইও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ডিএস/এমএএইচ