জুমার দিন সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহ তায়ালা এই দিনকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। কোরআনে ‘জুমা’ নামে স্বতন্ত্র সূরার নাজিল হওয়া এ দিনের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে। ইসলামী শিক্ষায় এই দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের মতো উল্লেখ করা হয়েছে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৯৮)

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুমার নামাজ প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও স্থায়ী মুসলমানের জন্য ফরজ। এই নামাজের আজানের পর নামাজের প্রস্তুতি ছাড়া অন্য কোনো কাজ করা নিষিদ্ধ। কোরআনে উল্লেখ আছে, ‘হে ঈমানদারগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়; তখন আল্লাহর স্মরণে দ্রুত বেরিয়ে পড়ো এবং সব লেনদেন বন্ধ করো।’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)

দেশে জুমার নামাজ উপলক্ষে সাধারণত দুইবার আজান দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, প্রথম আজানের পর মসজিদে যাওয়ার প্রস্তুতি ছাড়া অন্য কাজ যেমন: গল্পগুজব, কাপড় ধোয়া-ইস্ত্রি, ঘরে কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি মাকরূহে তাহরীমী। তবে নামাজের প্রস্তুতিমূলক কাজ যেমন অজু, গোসল ও কাপড় পরিধান বৈধ।

জুমার খুতবার সময়ও কোনো ধরনের কথা বলা হারাম। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘খুতবার সময় কারও সঙ্গে ‘চুপ করো’ বলা পর্যন্ত অনর্থক।’ (সহীহ বুখারী: ৮৯২; মুসলিম: ২০০৫)

অধিকাংশ আলেমের মতে, খুতবার সময় চুপ থেকে মনোযোগসহ খুতবা শোনা ওয়াজিব। এমন সময়ে নফল নামাজও পড়া বৈধ নয়। (মেশকাত, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৪৩২)