ঢাকায় প্রতিদিনই দাম্পত্য বিচ্ছেদ বাড়ছে—এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সামনে এনে তালাকের ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব ও সমাধানের বিকল্প পথ নিয়ে জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশের দুই প্রখ্যাত ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী ও শায়খ আহমাদুল্লাহ।
তথ্য অনুযায়ী, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রতিবছর ১,৪০০–এর বেশি তালাক নিবন্ধিত হয়। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৭টি পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা ভোগবাদী মানসিকতা, পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ, একে অপরের অধিকার থেকে উদাসীনতা ও অবৈধ সম্পর্ক এসব বিচ্ছেদের প্রধান কারণ।
বিচ্ছেদ কোনো সমাধান নয় — মিজানুর রহমান আজহারী
এক ফেসবুক পোস্টে আজহারী লিখেছেন, ‘বিচ্ছেদ কখনো সমাধান নয়; এটি সাময়িক স্বস্তির আড়ালে দীর্ঘ অনুতাপ ও গভীর মানসিক যন্ত্রণার সূচনা।’ তিনি দাম্পত্য সমস্যার পেছনের কারণ শনাক্ত করে তা সমাধানের চেষ্টা করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সহিহ মুসলিমের একটি হাদিস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শয়তান সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয় যখন সে কোনো ঈমানদারের সুখী সংসার ভেঙে দিতে পারে।’ হাদিসে এমনকি বলা হয়েছে, যে অনুচরটি কারো দাম্পত্য জীবন নষ্ট করতে সক্ষম হয়, শয়তান তাকে বিশেষ মর্যাদা দেয়।
কোরআনের সুরা বাকারার ২০৮ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি মুসলিমদের শয়তানের ফাঁদ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
ভাঙার আগে শতবার ভাবুন — শায়খ আহমাদুল্লাহ
শায়খ আহমাদুল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, ‘তালাক কোনো প্রশংসনীয় কাজ নয়; বরং চরম নিরুপায় অবস্থায় বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে বের হওয়ার শেষ পথ।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একবার নয়, শতবার ভাবতে হবে—সংশোধনই আসল সমাধান।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, তালাকের সবচেয়ে বড় ক্ষতিজনক প্রভাব পড়ে সন্তানদের ওপর—বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের মানসিক আঘাত তারা সারাজীবন বহন করে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজ হয়তো মনে হচ্ছে একা থাকাই ভালো, কিন্তু এ বয়স চিরস্থায়ী নয়। বার্ধক্যে যখন অসুস্থ শরীরে নিঃসঙ্গতার রাতে পাশে কেউ থাকবে না, তখন বুঝবেন—একটা সম্পর্ক ধরে রাখা কত জরুরি ছিল।’
আজহারী শেষে দোয়া করেন, ‘আল্লাহ আমাদের ঘরগুলোকে সাকিনায় (শান্তি ও প্রশান্তি) পূর্ণ করুন।’ অন্যদিকে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘সংসার ঠিক মাটির হাঁড়ির মতো—গড়তে সময় লাগে, ভাঙতে লাগে এক মুহূর্ত; আর ভেঙে গেলে তখনই বোঝা যায়, এটাই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।’