মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম (বান্দরবান): বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা—প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অদ্ভুত আকর্ষণের নাম। চকরিয়া থেকে শুরু হওয়া যাত্রাপথে ফাঁসিয়াখালীর অরণ্য, পাহাড় ঘেঁষে আঁকাবাঁকা রাস্তা আর অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য দর্শনার্থীকে মুগ্ধ করে রাখে। প্রায় দুই ঘণ্টার যাত্রা শেষে পাহাড়বেষ্টিত ছোট্ট উপত্যকা আলীকদমে পৌঁছানো যায়। এখান থেকেই শুরু হয় আলী সুড়ঙ্গ অভিযাত্রা।
আলী সুড়ঙ্গ আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। যেতে হলে পার হতে হয় তৈন নামের একটি খাল। গ্রীষ্মে খালটি প্রায় শুকনো থাকে, তবে বর্ষায় উত্তাল স্রোতধারা দেখা যায়। এই খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করেছে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর। ব্রিজ পেরিয়ে শুরু হয় পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ, ঝিরি আর জঙ্গলের মধ্য দিয়ে রোমাঞ্চকর ট্র্যাকিং।
সুড়ঙ্গ দুটি পাহাড়ের ভেতর প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে মনে হলেও এর রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। মোগল সেনাপতি ফতে খাঁ ১৬৬১ খ্রিস্টাব্দে এই জনপদে জুমিয়াদের পুনর্বাসিত করে জমিদারী শুরু করেন। এই সময়েই আত্মরক্ষার জন্য এই সুড়ঙ্গগুলো খনন করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। প্রথম সুড়ঙ্গটি তুলনামূলক ছোট ও সরু। টর্চলাইটের আলোয় অন্ধকার ভেদ করে হাঁটতে হয় ভেতরে। দ্বিতীয় সুড়ঙ্গ তুলনামূলক দীর্ঘ ও প্রশস্ত। ভেতরে প্রবেশ করলে বাদুড়ের ডানা ঝাপটানোর শব্দ কানে বাজে, সঙ্গে থাকে এক অদ্ভুত বোটকা গন্ধ। বর্ষাকালে প্রবেশমুখ পানিতে ডুবে যায় এবং সাপের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠেÑ তাই তখন এ পথ বিপজ্জনক।
সুড়ঙ্গ দুটির ভেতর হাঁটতে গিয়ে অভিযাত্রীরা একদিকে যেমন অনুভব করেন প্রকৃতির রহস্যময়তা, অন্যদিকে তেমনি খুঁজে পান নির্জনতার সৌন্দর্য। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক জায়গায় গুহার দেয়ালে লেখা নাম, অশ্লীল চিত্র আর প্লাস্টিকের মোড়ক চোখে পড়ে, যা প্রকৃতির প্রতি মানুষের অবহেলার নিদর্শন।
ভ্রমণ পরামর্শ
# আলীকদমে থাকার মতো ভালো হোটেল নেই; তাই দিনে দিনে ঘোরার পরিকল্পনা করুন।
# গাইড নেওয়ার আগে দরদাম ঠিক করে নিন।
# মশার হাত থেকে বাঁচতে ম্যালেরিয়ার ওষুধ খেয়ে নিন।
# জোঁক তাড়ানোর জন্য লবণ সঙ্গে রাখুন।
# বর্ষায় স্যান্ডেল, শীতে কেডস ব্যবহার করুন।
আলী সুড়ঙ্গ শুধু দুটি গুহা নয়, এটি এক অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। পাহাড়, অরণ্য আর আঁধারের ভেতর লুকিয়ে থাকা আলোর রহস্য এই যাত্রাকে করে তোলে স্মরণীয় ও হৃদয়গ্রাহী।