ওমর বিশ্বাস
আসিফ এব্যাপার কাজ করলেও এখনো কিছুই করতে পারেনি। তবে সে আশাববাদী। তার জিদ ধরে আছে। গতকালকেই তার নামে আবার এলিয়েনরা হুমকি দিয়েছে। আসিফ ওদের কথা শুনে কয়েকবার হ্যালো হ্যালো করেছে। কিন্তু তাদের সাথে কানেক্ট করতে পারেনি। তার ধারণা ওরা ইচ্ছা করেই হয়তো তার কথার রেসপন্স এইমুহূর্তে করছে না। এটা তাদের কৌশল হতে পারে।
আসিফ চেষ্টা করে যাচ্ছে। সে একটা ভয়েস ম্যাসেজ দিয়ে রেখেছে যে সে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে চায়। যদি শুনতে পায় তো ভালো। আসিফের তরফ থেকে কোনো সমস্যা নাই। যদি তারা রাজি নাও হয় তবু চেষ্টা করতে সমস্যা নাই। তারা বুঝুক সে ওদের উপস্থিতি টের পেয়েছে। আসিফের কথা হলো, সে তদের সবকিছু সম্পর্কে জানতে চায়। রহস্যটা বের করতে হবে। যদি তারা উত্তর দেয় তাহলে তো ভালো না হলে নাই। তার চেষ্টা সে থামাবে না। একবার যখন তাদের নেটওয়ার্কে সে ঢুকতে পেরেছে সে সব সময় তাদের সাথে যুক্ত থাকার চেষ্টা করবে। ম্যাসেজ দেওয়ার পর তার মনে হলো, শেষ কথাটা না বললেও হয়তো ভালো হতো।
আসিফ যখনই সুযোগ হয় তদের সাথে যুক্ত থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সে লেগে আছে। আর দারুণ লাগছে বিষয়টা। বন্ধুরাও তো দারুণ খুশি। তারাও ওর সাথে একত্রে মিলে এর শেষ দেখতে চায়। এসব নানান কথা ভাবতে ভাবতে আসিফের মন জেদ বেড়ে যায়। আসিফ নিজেকে আরো একবার মনে মনে তৈরি করে নেয়। তাকে এই কাজ পারতেই হবে। এর শেষ দেখতেই হবে। আজ সারাদিনই ব্যস্ত ছিল। কালকেও সারাদিন কাজে লেগে থাকা যাবে।
তার আজকের রাতটা নির্ঘুম কেটে যায়। কাল অবশ্য তাদের স্কুল নাই, ভালোই হয়েছে।
এরকম ভাবে দিন কাটে আসিফের। ঘুম হয় ঠিকই। পড়তে গেলে অনেক সময় এলোমেলো হয়ে যায়। সেদিন পড়ার টেবিলেই ঘুমিয়ে পড়ে। আবার উঠে জেগে জেগে ঘুমায়। পড়ার ফাঁকে ফাঁকেই ভাবতে থাকে। সে ভাবে তার ব্যাপারে কোথাও কোনো একটা কিছু হয়েছে। সে তা কিছুতেই বুঝতে পারে না। তার জানামতে তার সাথে কারোর কোনো ঝামেলা হয়নি। তাহলে সমস্যা কোথায়?
এলিয়েনরা যেভাবে কথা বলে পৃথিবীর মানুষে এভাবে কোনো কথা বলে না। মানুষ রোবট বানায়। কিন্তু এলিয়েনদের কথা বলার ধরনকে রোবটের মতো লাগে তার কাছে। এসব ছিল আসিফের এলোমেলো চিন্তা। একসময় সে ঘুমিয়ে যায়। এদিকে সকাল হয়েছে। উঠতে হবে।
(চলবে)