ওমর বিশ্বাস
যেভাবে এসব তাদের সামনে প্রকাশ পেয়েছে তাকে তারা কাজে লাগাবে। সব বন্ধুরা তার আর মোবাইল ব্যবহার করে তাদের নেটওয়ার্কে হানা দেবে। তছনছ তরে দেবে তাদের সিগন্যাল ব্যবস্থা। নিরাপত্তাবলয়। এক মোবাইলে বিপর্যস্ত হলে অনেক মোবাইলে ছেঁড়াবেড়া হয়ে যাবে। ওদের পরিকল্পনা ভেসে যাবে। তখন আর কিছু না হোক তারা লেজ গুটিয়ে চলে যেতে বাধ্য হবে। মানুষের জীবন নিরাপত্তা লাভ করবে। সম্পদগুলো পৃথিবীতেই থাকবে।
এরমধ্যে আসিফরা আরো কিছু পেয়েছে। উপগ্রহটাকে আরো অনেকেই দেখেছে। এলিয়েনদেরও শহরে হঠাৎ হঠাৎ দেখা যায়। দিনের বেলাতেও মানুষের গায়ে ঠান্ডা লোকদের শরীরের স্পর্শ লাগে। এদিক-ওদিক কিছু কিছু নিদর্শন পাওয়া গেল।
এর জন্য বেশি দেরি করা যাবে না। যত দেরি করা যাবে তত এলিয়েনরা সাহস পাবে। বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করার সময় পেয়ে যাবে। তাতে কখন আবার কোন সুযোগ তারা পেয়ে যায় কে জানে। তবে আসিফরা নিশ্চিত নয় এরা কতদিন থাকবে। এদের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও আসিফরা নিশ্চিত না। কিছু দিন আগেই তো মাত্র আসলো। এর আগে তারা নয়দিন একটানা ছিল তা ধরা পড়েছিল সেটে আসা তথ্য মোতাবেক।
মোবাইল সেটকে কাজে লাগিয়ে তারা উপগ্রহের ভিতরের ছবিও আনতে চায়। কিন্তু কীভাবে আনবে? সেটা আদৌ কি সম্ভব? সে পরীক্ষাও তারা করে নেবে। একবার যদি কোনো ছবি তাদের হাতে আসে তাহলে অনেক এগিয়ে যাবে গেলো কাজ। ওই ছবি দিয়েই তাদের উল্টো হুমকিতে ফেলা যাবে।
দুদিন ধরে তারা চেষ্টা করলো তাতে কোনো লাভ হলো না। তবে তাদের একজনের মাথায় হঠাৎ একটা বুদ্ধি এসেছে।
বজ্রপাতের ঝিলিক যদি দেখা যায় রেখায় রেখায় সেই রকম রেখা তৈরি করে কৃত্রিম বজ্রপাত সৃষ্টি করে মোবাইল নেটওয়ার্কে যুক্ত করা যায় কিনা ভেবে দেখা যেতে পারে। যদিও উদ্ভট একটা কথা বলেছে বলে অন্যদের কাছে মনে হলো। কিন্তু কেউ তা নিয়ে নেগেটিভ কোনো মন্তব্য করলো না। আগ্রহও অতটা দেখাতে পারল না। চাপা একটা উত্তেজনা নিজেদের ভিতর দেখা গেল। তাদের একটা ধারণা মনের ভিতর গেঁথে আছে আসিফের অজান্তে যদি এতবড় একটা কিছু হতে পারে তাহলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে এটাই বা হতে কতক্ষণ। এই জন্যই কেউ কিছুই বলছে না। অবিশ্বাসও করছে না।
তবে তারা প্রত্যেকে মনে মনে বেশ উৎফুল্ল। তাদের মিশন অন্যরকম এক মিশন। একটা বিষয় তারা চিন্তা করছে।
সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টা নিয়ে নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে না অন্যদের অর্থাৎ বড়দেরও জানাবে। শেষে না আবার জানাজানি হয়ে গেলে কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায় কে জানে। তারা ভাবে, যদি এর পিছনে বড় ধরনের ঝুঁকি থাকে তাহলে তার দায়দায়িত্ব কে নেবে? যদি বড়দের বলা হয় তারা যদি গুরুত্ব না দেয়? কিংবা তারা যদি এমন কিছু করে যা তাদের পছন্দ নাও হতে পারে, তাহলে কি হবে? (চলবে)