ওমর বিশ্বাস
সে ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠবে ঠিক করেছিল। কিন্তু উঠে কি করবে? তার অস্থির লাগছে। নিজের ভিতর একটা চাপা উত্তেজনা। কখন যে তার বন্ধুদের সাথে দেখা করতে পারবে। তাদের খুলে সব বলবে আর কি করা যায় তাই নিয়ে একটা সলাপরামর্শ করতে পারবে।
সে একবার হাফ ছেড়ে দেয়।
বিছানায় শুয়ে পড়ে। না তার শুয়ে থাকতে ভালো লাগছে না। একই চিন্তা কখন তাদের সাথে দেখা হবে Ñ সেটাই মাথার ভিতর ঘুরঘুর করছে। সে আবার উঠে বসে। তার বসতেও ভালো লাগছে না।
আসিফের মনে পড়ে এখন আবছা আবছা মনে পড়ছে যে কয়েকদিন আগে এরকম একটা লালবাতির নড়াচড়া সে দেখেছিল আকাশে। সেদিন চাঁদের আকার ছিল অর্ধেক। ফলে আলো ছিল, আকাশে অন্ধকারের কালো ভাবটাও ছিল। পড়ার সময় তার মাঝেমধ্যে জানালার বাইরে চোখ যায়। সে রকম এক সময় সে দেখতে পায় একটা লালবস্ত্র চাঁদকে ডিঙিয়ে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে চলে গেল। তখন তার অবচেতন মন ততটা সাড়া দেয়নি।
আজ মনে হচ্ছে সে কেন সেদিন এটা ভালো করে দেখেনি। এটা নিয়ে তার নিজের কেন কোনোরকম কৌতূহল আগে হলো না। আজকে একটা গো গো আওয়াজ শুনেছে। বাতাস ভারী করা একটা সো সো শব্দ তার কানে লেগেই আছে। শব্দটা কিসের সে অনেকক্ষণ চিন্তা করেও বের করতে পারেনি। শব্দটা অনবরত কানের কাছে আওয়াজ করেই যাচ্ছে?
সে বিজ্ঞানের কিছু জানে না। কি হতে পারে এটা। তার কোনো ধারণা হলো না।
সে আবার পড়তে বসল।
রাত তখন কত হবে? এগারোটা-বারোটা?
ঘড়ি দেখল আসিফ।
ওমা! এতো রাত হয়েছে। একটা ছাপ্পান্নো!
তার তো মনেই হয়নি সে এতো রাত জেগে আছে।
আসলে তার ঘুম আসছিল না। তার মনে হচ্ছিল আজ কিছু একটা ঘটবে। সে জন্য অপেক্ষা করছে। কখন যে রাত হয়েছে টের পায়নি।
এমন সময় আসিফ অপ্রত্যাশিত আনন্দে লাফ দিয়ে উঠলো।
আসিফের সাথে এলিয়েনদের নেটওয়ার্ক যুক্ত হয়ে গেছে। আসিফ অবাক। এলিয়েনরাও খুবই অবাক। ওরা উদ্বিগ্নও। তাদের প্রত্যেকের কপালে একটা করে ভাঁজ পড়েছে চিন্তার। কারোর কারো একাধিক। কী করবে এখন তারা? পরিকল্পনা কি সব ভেস্তে যেতে বসেছে? তাদের চিন্তার রেখাগুলো বারবার সংকুচিত হয়ে আসছে। সংকেত পাঠাতে হবে হেডকোয়ার্টারে। তার আগে নিজেদের ভিতর জরুরি আলোচনা শেষ করে নিতে হবে।
তারা জানে একবার কোনো অঘটন ঘটলে পরবর্তী মিশন শুরু করতে অনেক সময় লাগবে। আবার শুরুতেই এভাবে ধরা খেয়ে যাবে তাও কল্পনার বাইরে। কোনো হিসাব তাদের মেলানো যাচ্ছে না। এর আগেও আসিফের নেটওয়ার্ক তাদের সাথে যুক্ত হয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল আসিফ খুবই মেধাবী ও শক্তিধর একজন মানুষ। এখন তাদের সেই ধারণা আরো স্পষ্ট হলো। (চলবে)