ড. বি এম শহীদুল ইসলাম
ভাষা এমন একটি মানদণ্ড যার চর্চা মানুষকে পন্ডিত ও মহা জ্ঞানী বানিয়ে দিতে পারে। মানুষের মনের কথাগুলো মাধুরি মিশিয়ে অন্যের নিকট বোধগম্যভাবে উপস্থাপন করা ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। সবার ভাগ্যে ভাষা উপস্থাপনের সমান যোগ্যতা জোটে না। তাছাড়া বহু ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা বৈদগ্ধ্য ব্যক্তিদের ভাগ্যে হাতছানি দিয়ে আগমন ঘটে। মানুষ বাগযন্ত্রের সাহায্যে সৃষ্ট ও উচ্চারিত যে অর্থবোধক ধ্বনি সমষ্টি দ্বারা নিজের মনের ভাব অন্যের নিকট ব্যক্ত করে সেটিকে আমরা ভাষা বলি। কিন্তু ভাষা জানা এবং তা অন্যের নিকট সাবলীল ও চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। কিন্তু ভাষার উপস্থাপন ও বাচনভঙ্গির তীক্ষ্ণতার কারণে বৈদগ্ধ্য ভাষাতাত্ত্বিক ড. কাজী দীন মুহম্মদ আমাদের সবার মাঝে অবিস্মরণীয় ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। সাহিত্য এবং ভাষা দর্শনে তাঁর পাণ্ডিত্য এবং অন্যান্য সাধারণ বিষয়ে তিনি যেসব দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, সে সম্পর্কে আমার আজকের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। বাংলা ভাষা অনুসন্ধানীদের জন্য এটি এক দীপ্তিময় ফল্গুধারার বিচ্ছুরণ ঘটাবে।
অবলীলাক্রমে বলা যায়, একগাদা বইয়ের পাহাড়ের পাশে মুখে সুন্দর শ্মশ্রুমন্ডিত লোকটি সাদা তাজ পরিহিত মস্তকে নিতান্ত সাধারণভাবে উপবিষ্ট আছে। দেখতে একেবারেই নীরব, নিরীহ, নিরহঙ্কারী। তাহলে হবে কি, জানি তো তিনি কি রকম ‘ধানী মরিচ’! প্রখর ব্যক্তিত্বশালী এই জ্ঞান মহীরুহের অনেক সাহিত্য কথা ও মিষ্টি গল্প আমরা শুনেছি। বক্তব্য, সেমিনার ও আলোচনা তাঁর জীবদ্দশায় আমরা তাঁর সাহচর্য পেয়েছি। তিনি একজন বড় মাপের সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, বৈদগ্ধ্য ভাষাবিদ এবং একই সাথে একজন ইসলামী গবেষক ও চিন্তাবিদ। শুধু শিক্ষক, অধ্যাপক, ভাষাবিদ আর প্রখর সাহিত্যিক বললে তাকে খাটো করা হবে। ইসলামী চিন্তা-চেতনা আর দিক দর্শনে তাঁর জুড়ি মিলানো সত্যিই অসাধ্য। আমরা যারা ভাষা ও সাহিত্য গিলে খাই অথবা উগরে দিই, তারা সবাই জানেন, প্রফেসর ড. কাজী দীন মুহাম্মদ-এর জ্ঞানের নাগাল কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। সীমাহীন এক প্রস্রবণ যেন ঝরণা আকারে দেশময় অনিন্দ্য সম্প্রসারণ হতে থাকে তাঁর পাণ্ডিত্যের ধারা। আমরা হয়তো কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক শাহেদ আলী সাহেবকে চিনি। তিনি হচ্ছেন-শাহেদ আলী সাহেবের ভগ্নিপতি। ড. কাজী দীন মুহম্মদ-এর মতো একজন বিজ্ঞ জ্ঞানী ও গুণীজনের সান্নিধ্য সবার ভাগ্যে জোটে না। আমরা যারা এ মহতী মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি, তারা সৌভাগ্যের অধিকারী। তাঁর বাড়িতে ছিল বিশাল এক লাইব্রেরি। এতো বই কারো বাড়িতে শেলফ ভরা থাকে না। পুরাতন-নতুন, ছেড়া, গোটানো সব রকমের বইয়ের সমাহার ছিল তার বাড়িতে। আর ইসলামী বইসহ কুরআন-হাদিসের দ্বিগু বা সমষ্টির কোনো কমতি ছিল না তাঁর ঘরে। ধর্মীয় চেতনায় তিনি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেন বুদ্ধিমত্তা দিয়ে। তাঁর আলোচনা, সেমিনার ও বক্তব্যে ভাষাবোধ ছিল অসাধারণ স্মৃতিচারণমূলক। ইসলামী দিকদর্শনে তিনি বিশ্বাস করতেন শতভাগ। অনেকেই বলে থাকেন, যারা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে পড়ার ও গবেষণা করেন, তারা নাস্তিক্যবাদী দর্শনে বিশ্বাসী হয়ে থাকেন। কিন্তু ড. কাজী দীন মুহম্মদ-এর ক্ষেত্রে এটি ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। তিনি নাস্তিকতাবাদী চিন্তা-চেতনা ও ভাবাদর্শের পরিবর্তে পরিপূর্ণ ইসলামী আইডলোজি ধারণ করেছেন। তিনি বুঝতেন, ইসলামী দর্শন ছাড়া সকল দর্শন মিথ্যায় ভরপুর।
ড. কাজী দীন মুহম্মদ-এর কর্মময় জীবন, বইয়ের সাথে সখ্যতা, অপরিসীম পরিশ্রমসাধ্য লেখা, অধ্যবসায়ী নিবিড় অধ্যয়ন, সারা জীবনের সঞ্চিত বই লুট, নষ্ট এবং দুই বছর জেলে থাকার ইতিবৃত্ত কে না জানে? অধ্যাপক ড. কাজী দীন মুহম্মদ ১৯২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলাযর রূপসী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম কাজী আলীম উদ্দিন এবং মায়ের নাম মোসাম্মাৎ কাওসার বেগম। তিনি ঢাকার প্রথম কলেজ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজে পড়াশোনা করেন। যার বর্তমান নাম সরকারি কবি নজরুল কলেজ। পুরাতন ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের ঠিক উত্তরে এবং গভর্নমেন্ট মুসলিম হাই স্কুলের বিপরীতে রাস্তার ওপারে বিশাল এলাকা জুড়ে এ কলেজের অবস্থান। পুরাতন আমলের জীর্ণ-শীর্ণ ইট-পাথর আর কাঠের তৈরি বিল্ডিংয়ের ছাদ এখনো কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর ১৯৪৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অনার্সে ভর্তি হন। কৃতিত্বের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর জ্ঞানের স্তরকে আরো শক্তিশালী করার মানসে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের ওপর গবেষণা করেন ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। সেখান থেকে দেশে ফিরে এসে তিনি ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষকতায় তিনি অসাধারণ মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষমতা অর্জন করেন। তারপর ১৯৭৬ সালে জাতীয় অধ্যাপক হন। তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৫ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন ১৯৮১-৮৪ সাল পর্যন্ত। বাংলা ভাষায় পাণ্ডিত্যের জন্য তিনি ভাষাতত্ত্ববিদ বলা ভাষাতাত্ত্বিক নামে আখ্যায়িত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণা পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি বাংলাদেশের সব ক’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও বোর্ডের সদস্য ছিলেন। বাংলা একাডেমির নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ টেক্সটবুক বোর্ডের পাঠক্রমের সদস্য ছিলেন। তিনি এ দেশের জ্ঞান জগতের এক অনন্য মনীষী, বিরল প্রতিভা, বিরাট মহীরুহ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু ভাষাবিদ অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভাষাতাত্ত্বিক, ইসলামী চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক এবং একজন মৌলিক গবেষক- ড. কাজী দীন মুহম্মদ। এ জ্ঞানতাত্ত্বিক নীরব সূর্যের মতো আলোকিত করেছেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জগৎকে। শিক্ষা, সাহিত্য, ভাষা ও জ্ঞান-গবেষণার ক্ষেত্রে যেসব মনীষী বাংলাদেশে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন, তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে প্রফেসর ড. কাজী দীন মুহাম্মদ বিশিষ্ট ও অন্যতম। অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের গবেষণায় রেখেছেন মূল্যবান অবদান। ড. সুনীতিকুমার কুমার চট্টোপাধ্যায়ের পর তিনি দ্বিতীয় বাঙালি, যিনি ভাষাতত্ত্বে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এ বিষয়ের ওপর শিক্ষকতা ও গবেষণা করে তিনি আন্তর্জাতিক ভাষাতাত্ত্বিকের গৌরব অর্জন করেন। ডক্টর কাজী দীন মুহাম্মদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদ অলঙ্কৃত করেছেন। ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ভাষা শিক্ষা ও সাহিত্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা, ইসলামী চিন্তা-গবেষণায় এবং ‘কলেজ অব এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ (সেডস)-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি ও বিভিন্ন শিক্ষা-কার্যক্রমের সাথে জড়িত থেকে তিনি শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে মূল্যবান অবদান রেখে গেছেন। তিনি রচনা করেছেন মূল্যবান ৩৮টি অনন্য গ্রন্থ। এ ছাড়া তাঁর প্রচুর অগ্রন্থিত প্রবন্ধ ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, ম্যাগাজিনে ও সাময়িকীতে।
ড. কাজী দীন মুহম্মদ ব্যক্তি জীবনে ছিলেন ইসলামের একনিষ্ঠ অনুসারি ও অসাধারণ ধার্মিক ব্যক্তি। ইসলামিক শিক্ষা জনসাধারণের মাঝে দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে ডক্টর কাজী দীন মুহম্মদ অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ‘ইসলাম প্রচার সমিতি’, ‘বাংলাদেশ মসজিদ মিশনসহ অনেক গুরুপূর্ণ সংগঠনের তিনি ছিলেন সমর্থক, পৃষ্ঠপোষক ও প্রচারক। তিনি এক সময় “স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন”-এর প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। উল্লেখ্য যে, আমার মতো একজন অযোগ্য ব্যক্তি এ সংস্থার নির্বাহী পরিষদের একজন অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ হয়েছিল। ডক্টর কাজী দীন মুহম্মদ অনেক ওয়াজ মাহফিলে সারগর্ভ, সাবলীল ওয়াজও করেছেন। তিনি একাধারে বাংলা ভাষা ও ইসলাম ধর্মের ওপর সুগভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। তিনি বহু ভাষাবিদ ও অতুলনীয় পাণ্ডিত্যের অধিকারী। ইংরেজি ভাষায় ছিল তাঁর অসাধারণ দক্ষতা, মৌলিক ও অনুবাদ গ্রন্থ। আরবি-ফার্সি ভাষায়ও ছিলেন সুপণ্ডিত। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত কুরআন মাজিদ, বোখারি, তিরমিজি, মোয়াত্তা, আবু দাউদ ইত্যাদি হাদিস গ্রন্থগুলোর অনুবাদ ও সম্পাদনার কাজও তিনি দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেছেন। তাই তাঁর অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন চিরকাল।
এ ভাষাতাত্ত্বিক দেশে-বিদেশে প্রচুর সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে অংশ গ্রহণ করেছেন। বক্তা হিসেবে তিনি ছিলেন অসাধারণ। শিক্ষা সফরে গিয়েছেন বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে। ভ্রমণ করেছেন প্রায় ৪২টিরও বেশি দেশে। একাত্তরে তার সংগৃহীত অত্যন্ত মূল্যবান, দুষ্প্রাপ্য ও দামি বই-পত্রসহ প্রায় ১৩ হাজার বই লুট হয়ে যায়, এর স্মৃতি ও ক্ষতি আমৃত্যু পূরণ করা সম্ভব হয়নি। নিজের লেখা ১০টি মূল্যবান পাণ্ডলিপিও এর মধ্যে ছিল। তিনি আমার লেখা অপ্রকাশিত গ্রন্থ- ‘একাত্তরে আমার বাড়ি” পান্ডুলিপি দেখেছেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি ধর্মবেত্তা ও সুফি-সাধক হিসেবে সফল, উদার, ন্যায়পরায়ণ ও মহানুভব। কঠোর ন্যায়নীতি, নিয়মনিষ্ঠা, সুশৃঙ্খলা, কর্ম ও কর্তব্যপরায়ণতা বাস্তবায়ন করেছেন নিজ জীবনে। কর্মে অচঞ্চল, অঙ্গীকারে অবিচল, প্রাণশক্তিতে দুর্দমনীয়, বলীয়ান একজন পরিপূর্ণ আদর্শ মানুষের মূর্তপ্রতীক ছিলেন এই পন্ডিত ব্যক্তি। জ্ঞানতাপস এই মহামনীষী বিগত ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর শুক্রবার রাত পৌঁনে ১২টায় ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। পরদিন বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রূপসীর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ধর্মের একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে সারাজীবন তিনি সাধনা করেছেন সত্য আদর্শের বিজয়ের জন্য।
ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ও ধর্মের প্রতি তাঁর অগাধ বিশ্বাস ছিল। তিনি মনে করতেন, ধর্ম বিশ্বাসই তাঁর সব কাজের মূলমন্ত্র। তাই তিনি কুরআন ও সুন্নাহর আদর্শ অনুযায়ী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মিত হোক-তা প্রত্যাশা করতেন। ড. কাজী দীন মুহম্মদ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মগ্ন থেকেছেন স্রষ্টার নৈকট্য অন্বেষণের নিমিত্তে। আদর্শিক জীবনযাপনের জন্য কোনো অন্যায়ের কাছে কোনো দিন তিনি মাথানত করেননি। কোনো জুলুমবাজ শাসকের রক্তচক্ষুকে কখনোই তিনি ভয় পাননি। সমাজে ও রাষ্ট্রে তাঁর মতো মহান মনীষীদের জীবন ও কর্ম নিয়ে যত বেশি আলোচনা হবে, লেখালেখি হবে, নতুন প্রজন্ম, সমাজ, রাষ্ট্র ততবেশি উপকৃত হবে। আল্লাহ তাঁর এ প্রিয় বান্দাকে যে সম্মান ও মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন, তা অতুলনীয়। তিনি একাধারে ভাষাবিদ, গবেষক, সুবক্তা ও ইসলামী চিন্তাবিদ ছিলেন। সুতরাং তিনি তাঁর সকল ভালো কাজের জন্য চিরদিন মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায় মর্যদার আসনে সমাসীন থাকবেন এবং মহান প্রতিপালকের নিকট যথাযথ পুরস্কার পাবেন-এটিই আমাদের প্রত্যাশা।