জসীম উদ্দীন মুহম্মদ
ছোট্ট একটি গ্রাম। সেখানে রোদ আছে। বৃষ্টি আছে। পাখির কলকাকলি আছে। মাঠে ছেলেমেয়েদের হাসির শব্দ আছে। গ্রামের স্কুলটির নাম “শান্তির বিদ্যাপীঠ”। সেই স্কুলে পড়ে রিমি, সায়েম, তানহা আর রুবেল। তারা খুব দুষ্টু কিন্তু খুব প্রাণবন্ত। কিন্তু তাদের মন ছিল খুব কোমল। একদিন বাংলা ক্লাসে শিক্ষিকা আপা বললেন, চলো, ছোট্ট বন্ধুরা, আজ আমরা যুদ্ধ নিয়ে কথা বলি। ম্যাডামের কথা শুনে শিশুরা একটু ভয় পেল। যুদ্ধ মানে তারা জানে টিভিতে দেখা ধোঁয়া, আগুন, কান্না, শিশুদের মৃত লাশ। রিমি হাত তুলে বলল, আপা, যুদ্ধ কি খুবই খারাপ? শিক্ষিকা মৃদু হেসে বললেন, যুদ্ধ মানে রাগের আগুন। সেই আগুনে ঘর পুড়ে যায়, মানুষ পুড়ে যায়, কাঁদে, পাখিরা উড়ে পালায়, প্রাণ হারায়। এই যুদ্ধ মানেই কেবল ধ্বংস আর ধ্বংস। তাই তোমরা সবাই মিলেমিশে একটি যুদ্ধ বিরোধী ছড়া লিখে আমাকে দেখাও।
সায়েম বলল, আমরা যুদ্ধ নিয়ে ছড়া লিখব কেন মেম? শিক্ষিকা বললেন, যাতে সবাই জানে, আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা চাই ফুল-ফসল, বন্ধুত্ব আর শান্তি। তারপর শিশুরা সবাই মিলে একটি ছড়া লিখল, “যুদ্ধ মানে কাঁদে আকাশ/ভেঙে যায় সব ঘর/ আমরা চাই না আগুন-ধোঁয়া/ চাই কেবলই পর। বন্ধুত্বের হাত ধরাধরি/ রঙিন হোক সব দিন/ রাগ নয়, ভালোবাসাই/ হোক পৃথিবীর ঋণ।” ছড়াটি লিখতে লিখতে তারা কল্পনা করল, যদি পৃথিবীর সব শিশু একসাথে গান গায়, তাহলে কি বড়রা আর যুদ্ধ করবে?
রুবেল বলল, যদি আমরা সবাই একসাথে বলি “যুদ্ধ নয়; শান্তি চাই!”, তাহলে কি যুদ্ধ থেমে যাবে?
শিক্ষিকা বললেন, হয়তো একদিন থেমে যাবে। কারণ বড়রাও একসময় ছোট ছিল। তারা যদি আবার তাদের ছোটবেলার কথা মনে করে, তাহলে তারা বুঝতে পারবে যুদ্ধের চেয়ে হাসি অনেক বেশি সুন্দর।
সেদিন স্কুল ছুটির পর শিশুরা মাঠে দাঁড়িয়ে তাদের ছড়াটি জোরে জোরে পড়ল। বাতাসে ছড়ার শব্দ ভেসে গেল। মনে হলো, আকাশও শুনছে। শিশুরা বুঝতে পারল, যুদ্ধের গল্পে ভয় আছে, অন্ধকার আছে। কিন্তু যুদ্ধবিরোধী ছড়ায় আছে আশা, আছে শান্তির বার্তা। সেই ছড়াগুলো শিশুদের শেখায় রাগ নয়, ভালোবাসাই শক্তি। ভাঙা নয়, গড়াই সুন্দর।
ছোট্ট রিমিরা জানে, তারা হয়ত এখনই পৃথিবী বদলাতে পারবে না। কিন্তু তারা একটা কাজ করতে পারে, তারা যুদ্ধকে “না” বলতে পারে। আর যখন একটি শিশু যুদ্ধকে “না” বলে, তখন পৃথিবীর কোথাও না কোথাও একটি শান্তির ফুল ফুটে।