লুৎফুন্নাহার

বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গণে গবেষক ও লেখক শহিদুল ইসলাম অন্যতম। তার রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম গ্রন্থ হল সাহিত্য ও সমাজ গ্রন্থটি। এই গ্রন্থটি জীবন, জগৎ, সাহিত্য, সংস্কৃতি সত্যতা, সমাজ সভ্যতা ও মানবতা দর্শন প্রভৃত বিষয়ের উপরে আলোকপাত করা হয়েছে। এই গ্রন্থটি মূলত: আধ্যাত্নিক এবং ধর্মতাত্ত্বিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে। গ্রস্থটিতে ২৮টি প্রবন্ধ আছে। যার প্রত্যেকটি জ্ঞান গর্ভে ভরা। জগত এবং জীবন সম্পর্কে মানুষের যে সন্তোষজনক চেষ্টা তা এই গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে। সাহিত্য ও সমাজ গ্রন্থটি মানুষ যে জীবনকে জয় করতে চলেছে তার ব্যাখ্যা এবং বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গ্রন্থটি জ্ঞানমূলক এবং শিক্ষনীয়। কারণ সমাজ এবং সভ্যতার পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও কিঞ্চিত আলোচনা করা হয়েছে বর্তমান গ্রন্থটিতে। স্বাধীনতা ছাড়া কোন জাতি যে টিকে থাকতে পারে না। স্বাধীনতা হল কোন জাতির শৃৎঙ্খলা নাগপাশ থেকে মুক্তির বিজয়। দার্শনিক মহলে স্বাধীনতার কথা ও উল্লেখিত হয়েছে। এই গ্রন্থটিতে মানব জাতির মুক্তি শান্তির কথা আলোচিত হয়েছে। গ্রন্থটিতে আধ্যাত্মিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এবং ধর্ম চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। শহিদুল ইসলাম তার ‘‘আধ্যাত্মিক এবং ধর্মতাত্ত্বিক চিন্তা’’ প্রবন্ধে বলেন- ‘‘প্রবৃত্তির গোলামে পরিণত আত্মা কোন দিন পরমআত্মার সাথে মিশতে পারে না। পরমআত্মার সাথে না মিশলে মাবআত্মা শান্তি পায় না। সর্বোচ্চ আনন্দ পেতে হলে আধ্যত্মিক দিক দিয়ে বিজয় অর্জন করতে হয়।’’

সেক্স ইন্ডাস্ট্রি এবং নন্দনতত্ত্ব প্রবন্ধে লেখক তার জৈবিকতা আর সম্পর্কিত চিন্তা প্রকাশ হয়। লেখক বলেন- মানুষকে সৌন্দর্যের চেতনা দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষের পরিচয় দায়িত্ববোধ ও সৌন্দর্যের চেতন।া কদর্য, ধর্ষণ ও সীমালঙ্ঘন ও পাশবিকতার সাথে মিশিয়ে দিয়ে আমরা জগৎ এবং জীবনকে কদাকার করে তুলতে পারি না। জগতে সকল প্রানীর সৌন্দর্যবোধ আছে মানুষের থাকবে না কেন? মানুষের সন্তান উৎপাদনের কারখানা আজ ঠিক করতে হবে তবে সুনাগরিক জন্ম নেবে। মানুষ পাবে শ্রেষ্ঠত্বের ঠিকানা। ’’শহিদুল ইসলাম তার নতুন শান্তিময় পৃথিবীর সন্ধান প্রবন্ধে বিশ্বশান্তির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন- ‘‘মানুষ যদি উগ্রবস্তুবাদ, উগ্র জাতীয়তাবাদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতিহিংসা দ্বারা চালিত হয় তাহলে বিশ্বের বুক থেকে শান্তি বিদায় নেবে এটা স্বাভাবিক। মানুষকে তাই এই ধরনের কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিশ্বকে শান্তির লীলাভূমিতে পরিণত করতে হবে।’’

মানুষকে জগৎ এবং জীবনকে নিয়ে বুঝতে হবে। পাশাপাশি হতে হবে সৎ দেশপ্রেমিক এবং নীতিজ্ঞান সম্পূর্ণ। আর এজন্য সাহিত্য ও সমাজ গ্রন্থটি সর্বজনীন পাঠ্য হওয়া উচিত।

মানব জাতির মুক্তিবুদ্ধি এবং শান্তি প্রবন্ধে শহিদুল ইসলাম মানবতার মুক্তির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন-‘‘মানুষ হিসেবে মানুষের মর্যাদা দেওয়ার যে শুদ্ধ ও উন্নত মানসিকতা তা সংকীর্ণ ও মিথ্যা চিন্তার মাধ্যমে সম্ভব না। এই ধরনের চিন্তার মাধ্যমে সাময়িক ও খন্ডিত মুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও বৃহৎ মানব গোষ্টির স্বার্থে কালজয়ী সুসামজ্ঞস্য মূল্যবোধ ভিত্তিক সত্য শিক্ষার উদ্বোধন সম্ভব নয়। মানবতার সার্বিক কল্যাণে গতানুগতিক পরিবেশের মধ্যে থেকে এ ধরনের উদ্বোধন ঘোষণা হবে বলে মনে হচ্ছে না। তাই আমরা শুধু আলো অপেক্ষা করতে পারি যা বিপর্যয়ে পড়া গ্রহটাকে হয়তো উদ্ধার করতে সক্ষম হবে এবং সমাজ শান্তিতে ভরে যাবে।’’ সাহিত্য ও সমাজ গ্রন্থটির প্রচ্ছদ এঁকেছে শাহাদাত হোসেন, প্রকাশ করেছে আহমদ পাবলিশিং হাউস- ঢাকা, মূল্য ২৮০ টাকা।