রেজা কারিম

জানে আলম। একাধারে কবি, ছড়াকার,গল্পকার ও ঔপন্যাসিক। কবিতা দিয়ে লেখালেখি শুরু করলেও পরবর্তীতে ছড়া, গল্পেও হয়েছেন নিয়মিত। পত্রিকার পাতায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হচ্ছে দীর্ঘকাল ধরে। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২৪ টি। এটি তাঁর অন্যতম কবিতার বই ‘ফাঁসির মঞ্চে পূর্নিমা চাঁদ’ গ্রন্থের আলোকে গ্রন্থ সংখ্যার বর্ণনা।

দু’ আড়াই বছর আগে জানে আলম ভাই আমাকে তাঁর চারটি বই (সম্ভবত) কুরিয়ার সার্ভিস মারফত আমাকে প্রেরণ করেন। তখনই ইচ্ছে ছিল বইগুলো নিয়ে আলোচনা করার। কিন্তু করা হয়ে ওঠেনি।

‘ফাঁসির মঞ্চে পূর্নিমা চাঁদ’ গ্রন্থটি তিনি আমাকে সৌজন্য দেন কিছুদিন আগে কবিতা বাংলাদেশের একটি অনুষ্ঠানে। তখনই আমি ভেবে রাখি এ বইটি নিয়ে আলোচনা করবো। পাশাপাশি লাইভে গিয়ে কবিতা আবৃত্তি করার ইচ্ছাটা এখনও মরে যায়নি।

‘ফাঁসির মঞ্চে পূর্নিমা চাঁদ’ একটি আপাদমস্তক কবিতার বই। বইটি প্রকাশিত হয়েছে মঈন মুরসালিনের প্রতিভা প্রকাশ থেকে।

প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রি.। আমার জানামতে জানে আলমের সবগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে প্রতিভা প্রকাশ থেকে। প্রতিভা প্রকাশের সাথে জানে আলমের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একজন লেখক একটি প্রকাশনী থেকেই তাঁর সব বই প্রকাশ করেছেন এটি অবশ্যই অসাধারণ একটি বিষয়। আমি মনে করি, এজন্য প্রতিভা প্রকাশের উচিত কবিকে সম্মাননা প্রদান করা। প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি, আমার একমাত্র কবিতার বইটিও ২০১০ সালে প্রতিভা প্রকাশ থেকে প্রকাশ করি।

বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা। বইটি নিবেদন করা হয়েছে কবি ও সমালোচক সিদ্দিক আবু বকরকে এবং কবি আহমেদ খায়েরকে। প্রচ্ছদ করেছেন মনিরুজ্জামান পলাশ৷

গ্রন্থটিতে মোট ৩২ টি কবিতা রয়েছে। বইয়ের শেষদিকে “রোদের কাব্য বোধের কাব্য” নামে ৩৬ টি অণুকাব্য রয়েছে। অণুকাব্যগুলো এককথায় অনবদ্য। শিক্ষণীয় এ কাব্যগুলো নিবিড়ভাবে পাঠ করলে যে কেউ বিভিন্ন ম্যাসেজ ও দিকনির্দেশনা পাবে। দুই লাইনের অণুকাব্যগুলো বক্তা চাইলেই খুব সহজেই আওড়াতে পারবেন।

কবি জানে আলম একজন শুদ্ধতম কবি। তিনি শুদ্ধস্বর ব্যবহার করে জাতিকে শুদ্ধ জীবনের দিকে আহবান করেছেন। তাঁর লেখা আমাদের একদিকে যেমন আধ্যাত্মিক পথের সন্ধান দেয়, অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসী হতেও উদ্বুদ্ধ করে।

সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে যায়’ নামক কবিতায় কবি বলেন,

তোমার উচ্চতার কাছে নত হয়ে যায় হিমালয়

কারণ তুমি সত্যকে ধারণ করো।

আর সত্যের ধারক ও বাহক যারা

তারা সাহসিকতায় সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে যায়।”

এখানে কবি আমাদের সত্যের ধারক ও বাহক হতে উদ্বুদ্ধ করে। যারা সত্যের ধারক-বাহক হতে পারে তাদের শক্তির সীমানা কত বড় তা দেখিয়েছেন। তাদের সাহসিকতাকে সিদরাতুল মুনতাহার সাথে তুলনা করেছেন।

সুরা ইয়াসিনের হাবিব নাজ্জারের উদাহরণ টেনেও কবি পাঠকদের সত্যের পথে আহবান করেছেন। যে সত্য সনাতন, যে সত্য চিরন্তন। তাঁর আহবান ভুল পথের মানুষকে সঠিক পথের পাথেয় যোগায়। যা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য। কবি আমাদের ভুলে যাওয়া দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। কবি তাঁর ‘গ্রহণ করো নান্দনিক মৃত্যু’ কবিতায় বলেন,

নগরীর উঁচু প্রাচীরে দাঁড়িয়ে

হাবীব নাজ্জারের মতো ঘোষণা দাও-

হে আমার কওম, তাবিউল মুরসালিন

আর গ্রহণ করো নান্দনিক মৃত্যু।”

এভাবে তাঁর প্রতিটি কবিতায় তিনি মানুষকে সত্যের প্রতি আহবান করেছেন। তিনি নিজেকে কবির পাশাপাশি একজন দাঈ হিসেবে মেলে ধরেছেন।

তাঁর আধ্যাত্মিক ভাবধারার কবিতাগুলো পাঠককে ভাবতে শেখায়। কবি জানে আলম’র এ কাব্যগ্রন্থটি চারিদিকে ডালপালা মেলে ছড়িয়ে পড়ুকক সেই কামনা।