ওমর বিশ্বাস
পরদিন তারা সকাল সকাল মাঠটার কাছে গিয়েছে। সেখানো কিছু কিছু অদ্ভুত জিনিস তারা দেখতে পেল। তাদের ভিতর একটা আগ্রহ জন্মায়। প্লাস্টিকের খোসার মতো কিছু জিনিস তারা পড়ে থাকতে দেখেছে।
তাদের কাছে যেটা সবচেয়ে বড় অবাক লেগেছে একটা বিশাল অংশ জুড়ে ঘাসগুলো কেমন যেন অবিন্যস্ত। মাঠের মাঝখানে বেশ কিছু অংশের ঘাস কেমন যেন উঠে এসেছে মাটি থেকে। এর মাটিগুলো সবটাই দেখা যায়। জোরে বাতাস হলে ছোট ছোট ঘাস যেমন কুঁকড়ে ওঠে আর মাটিগুলো উন্মুক্ত হয়ে যায় তেমন দেখাচ্ছে। মনে হলো এখানে কোনো কিছু রাখা হয়েছিল। কেউ কোনো কিছুর ধারণা করতে পারে না।
তাজিন বলেছিল এখানে হেলিকপ্টার নেমে থাকতে পারে।
তাজিনের কথায় বাধা দিয়েছিল রাজিব। বলেছিল, হেলিকপ্টার হলে তার বাসা থেকেই শোনা যেত।
তাজিন বলেছিল, শুনিসনি তো কি? তুই না শুনলে কি আর হেলিকপ্টার আসতে পারে না?
কিš‘ বাকি কেউ তো শোনেনি, তাইলে? সিয়াম প্রশ্ন করেছিল।
কি জানি বলে তাজিন দুই কাঁধ উঁচু করে জবাব দেয়।
সিফাত প্রস্তাব দেয় এটা পোহদের নিয়ে এখন কোনো কথা হবে না। এখন অন্য গল্প হবে।
সিফাতের মুখে এলিয়েনের বদলে ‘পোহ’ নাম শুনে সবাই জোরে জোরে হাসতে থাকে। আসিফ চুপ ছিল। বলল, ভালোই বললি।
এবার সবাই একসাথে পোহ, পোহ বলে একে অন্যকে দেখিয়ে ডাকতে থাকে।
এখন অন্য গল্প হবে। ওরা এতোদিন বহুত মাথা খাইছে ওরা আমাদের সবার। সবাইকে থামিয়ে সিফাত আবার প্রস্তাব করল।
ঠিক আছে, আসিফ বলে, সিফাতের কথাই থাক। চল অন্য গল্প করি। এ নিয়ে তখন আর বেশি কথা হয়নি তাদের মধ্যে। ঠিক হয় পরে বিস্তারিত আলাপ করবে।
তারা সবাই একত্রে গল্প করতে থাকে মাঝখানে বসে।
সেদিনের পর থেকে উপগ্রহটাকে আর দেখা যায়নি।
(শেষ)