ওমর বিশ্বাস

আসিফের চোখেমুখে খুশির ভাব। সে এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী । নিজেকে তার এই মুহূর্তে খুব হালকা হালকা লাগছে। সে আবার দুইতিনবার একই কায়দায় করে দেখল ভেজা গ্রিলের সাথে তার লাগালে জ্বলে ওঠে স্ক্রিন। তাহলে! তাহলে কি এখানেই কোনো রহস্য লুকানো আছে!

আসিফ দারুণ উত্তেজিত। সে ছটফট করছে। তার হার্টবিটে জোরে জোরে আওয়াজ হচ্ছে। আওয়াজ শুনতে পায়। এখন কি করবে বুঝতে পারে না। সে আর স্থির থাকতে পারছে না।

তা হলে এই তার, বৃষ্টি আর গাছের পাতার ভিতর নিশ্চয় কোনো সম্পর্ক আছে!

বৃষ্টি না হলে, তখন?

যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে কি পানির কোনো সাহায্য লাগে?

পানি না হলে কি হবে? তখন সে কীভাবে কাজ করবে?

এরকম বেশ কিছু প্রশ্ন দ্রুত ভিড় করে আসিফের মাথায়। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকটি বিষয় তাকে আরো অস্থির করে তোলে। সে ভুলে গিয়েছিল যে তার মোবাইলে এখনো সংযোগ আছে। সে ভাবছে তার মোবাইলের সাথে অন্য কোথাও একটা সংযোগ ঘটেছে। বিনা তারে। তাহলে সেটা কীভাবে?

সে কি এখন বন্ধুদের বাসায় যাবে? তার খুব ইচ্ছ করছে সবাইকে জড়ো করে এই অদ্ভুত ঘটনাটা শোনাতে। এটা নিয়ে অন্যদের সাথে আলাপ করতে।

আসিফ মনে মনে ঠিক করে তারা একসময় বিষয়টা তাদের স্কুলের বিজ্ঞান স্যারকে বলবে। স্যার তাদের কোনো গাইডলাইন দিতে পারে কিনা দেখবে। এটা নিয়ে যদি নতুন কোনো গবেষণা করতে পারে, সত্যিকার কিছু আবিষ্কার করতে পারে, ইস্ দারুণ হবে! সে আরো উত্তেজিত হয়ে পড়ে।

আসিফ স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে। সে মোবাইল সেটের দিকে মন দেয়। এখনো সেখানে সাদা আলো জ্বলছে। বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে। বেলা হয়েছে। ঘড়িতে দশটা দশ মিনিট। সে সেটে কান দিয়ে কিছু শোনার চেষ্টা করে। পুরো মনোযোগটা দেয় ওখানে।

একটা শব্দ হচ্ছে কিটিমিটি ধরনের। সে তারটা নাড়ায় না। যদি আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঝুঁকে পড়ে টেবিলে রাখা সেটের উপর, একটা কান দিয়ে অন্য কান চেপে ধরে হাতের তালুতে।

আসিফ কিছু শুনতে পায়। সে ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তার শরীর কাঁপতে থাকে। হ্যাঁ, সত্যি সত্যি সে শুনতে পাচ্ছে!

“হ্যালো হ্যালো হ্যালো....” প্রথম কণ্ঠ

হ্যালো, সংক্ষেপে বলো। দ্বিতীয় কণ্ঠ

আসিফ ধরে নেয় দুই প্রান্তে দুইজন কথা বলছে। মানুষের কণ্ঠ! তাদের মধ্যে কোনো কথাবার্তা হচ্ছে, ম্যাসেজ দেওয়া-নেওয়া হচ্ছে।

“অল্পের জন্য ফেইল...!”

বলো কি! অপর পাশের বিস্মিত কণ্ঠ। তাতে যথেষ্ট উদ্বেগ আছে।

“মিশন.. ফিরাবো...নির্দেশ?”

“না....।”

আসিফ এ পর্যন্ত কয়েকটা শব্দ শুনল। কি হতে পারে এসব? সে ভাবছে। কেউ কারোর সাথে কথা বলছে। সত্যি বলছে না এটা তার মনের ভুল। ঠিক হতে পারে। কিন্তু তার মোবাইল থেকে কীভাবে এটা সম্ভব? তাও কোনো কিছুর সংযোগ ছাড়া। আসিফ দ্বিধায় পড়ে যায়।

তার মনে হলো কেউ এখানে এসেছে কোনো মিশন নিয়ে। মনে মনে একটা হিসাবনিকাশ করল। তার ধারণা, তাদের প্রাথমিক মিশন ব্যর্থ হওয়ায় আপাতত ফিরে যাওয়ার অনুমতি চায়। কিন্তু তাদের থাকতে বলা হয়েছে। (চলবে)