শীত এলে

আবুল হোসেন আজাদ

শিশিরে গা ধুয়ে আসে শীত ভোর ঘোলাটে নীল আকাশ

কুয়াশার দোর ঠেলে জাগে পূবে সূর্যটা ঘুম ফেলে

ঝিরিঝিরি বয় কাঁপন জাগানো উত্তুরে হিম বাতাস

রোদের ঝিলিক ছিটিয়ে পলকে উত্তাপ দেয় ঢেলে।

সরিষার ফুল হলুদে হলুদে ঢেকে দেয় সারা মাঠ

সবুজের ঢেউ মটরশুঁটিতে গাজর সীমের পাতায়

মিটিমিটি দূর রাতের আকাশে বসে তারাদের হাট

অতিথি পাখিরা কল-কাকলিতে বিল ও ঝিল মাতায়।

দোপাটি ডালিয়া চন্দ্রমল্লিকা গোলাপ রজনীগন্ধা

কুঁড়ি থেকে ফুল ফুটেছে কতনা নানা রং অপরূপ

দিনটুকু ছুটে জলদি পালায় এনে দিয়ে সে সন্ধ্যা

শীত এলে শুনি রাতের মলাটে শিশিরের টুপ টুপ।

হাদি

সেলিম এমরাজ

সামনে, পিছে, ডানে দেখি আবার দেখি বাঁ দিকে

যেদিক তাকাই সেদিক দেখি লক্ষ কোটি হাদিকে

সব হাদি আজ স্লোগান তোলে সাহস বুকে নির্ভেজাল

দেশের জন্য লড়াই করে আধিপত্যের ছিঁড়বে জাল।

এই হাদিরা হাদির স্বপ্ন লালন করে বক্ষে

চির সবুজ মাতৃভূমি বাংলাদেশের পক্ষে

ভিনদেশীদের গোলাম যারা দেশটা করে বিপন্ন

তাদের জন্য প্রশ্ন রাখে আমার দেশটা কি পণ্য?

দস্যি খোকা

সাদমান হাফিজ শুভ

দস্যি খোকা! দস্যি খোকা!

মাছ শিকারে যায়,

বড়শি ফেলে আপন মনে

খুশির সুরে গায়।

হঠাৎ করে হ্যাঁচকা টানে

বড়শি তোলে যেই,

একটা পুঁটি আটকা পড়ে

নাচতে থাকে সেই।

তাই না দেখে দুষ্টু চিলে

ছোঁ মেরেছে হায়!

খোকা এবার রেগেমেগে

চিলের পিছু ধায়।

চিলটা কী আর শোনে কথা

চিলের হদিস নাই,

খোকা বলে-ধ্যাৎ তেরিকা

ভাল্লাগে না ছাই!

মায়ানদী

শাকেরা বেগম শিমু

দুগ্ধরূপী স্রোতসীনি

শান্ত শীতল নদী,

আঁকাবাঁকা পথে সদাই

বইছে নিরবধি।

কলকলিয়ে মধুর ধ্বনি

মনগহীনে এসে,

উঁচু নীচু ঢেউ তুলে যায়

আমার সবুজ দেশে।

রাতদুপুরে, মন-পুকুরে

ফের হানা দেয় নদী,

বুকের ভেতর অবিরত

তারই বসতগদী।

কুমড়ো

সাজ্জাদ সাদিক

কুমড়ো ঝুলে কুমড়ো ঝুলে

ঝুমকো ফুলের মতো,

কুমড়ো ফুলে কুমড়ো ফুলে

দুমড়ো ভ্রমর কতো!

হলদে ফুলে প্রজাপতি

গায়ে সুবাস মাখে,

রঙে রঙে রঙ মিলিয়ে

মনে ছবি আঁকে।

কুমড়ো দোলে কুমড়ো দোলে

ধুম বাতাসের ঠেলায়,

ফুলে ফুলে কুমড়ো দোলে

কড়া কুমড়োর বেলায়।

জলে ভাসে কলমিলতা

কুমড়ো লতা মাচে,

কুমড়ো পাতার শুটকি পিঠা

প্রিয় আমার কাছে।

নতুন বই

মো. দিদারুল ইসলাম

নতুন বছর খোকা-খুকির

হাতে নতুন বই,

নাওয়া-খাওয়া ভুলে গেছে

আনন্দে থই থই।

বইয়ের পাতায় রঙিন ছবি

জুড়ি মেলা ভার,

খোকা-খুকি সেই খুশিতে

দেখছে বারেবার।

খুকুমণির অ-আ পড়ে

কাটছে সারাদিন,

খোকন সোনা দাদুর সাথে

গুনছে এক-দুই-তিন।

নতুন বইয়ের গন্ধে আকুল

পড়ায় মগ্ন বেশ,

খোকা-খুকি শিক্ষা শেষে

গড়বে সোনার দেশ।

শীত

ওমর বিশ্বাস

চললাম আমি রোদের খোঁজে শীত এসেছে গাঁয়

শীতের সাথে আসল শিশির আলতো ছোঁয়া পায়

কে বাজালো শীতের বাদ্য ছড়িয়ে শিশির দানা

রসের হাড়ি কাঁপছে ভীষণ-শুনছে কে কার মানা।

যেই না শিশির জড়িয়ে এলো শীত জড়ালো আরো

টলমলানো নাওয়ের মতো কাঁপছে হৃদয় কারো

রাত্রি এলে আলোর শিখা জড়ায় তারার নূপুর

শর্ষে ভরা মাঠ জুড়ে শীত কাটায় উদাস দুপুর।

শীত তো এখন ঘরের ভিতর দিচ্ছে হানা রোজ

ফেনার নিচে উম নিয়েছে- করছে রসের খোঁজ

বাঘ ভাবেনি শীতটা এমন হানবে আঘাত গায়

বাঘ মামাও যে এমন শীতে বড়ই নিরুপায়।

কদিন পরে শীত পালাবে এখন পালায় বাঘ

কাটবে সুতা শীতের ঘুড়ির তাই করো না রাগ।

পৌষ আর মাঘ

মিলন কান্তি দাস

পৌষ আর মাঘ মাসে

কনকনে শীত

কেউ থাকে ঘরে শুয়ে

মাথা করে চিত।।

পৌষ আর মাঘ মাসে

শীত থাকে তীব্র

কুয়াশায় ঢেকে যায়

পুরোটাই অভ্র।।

পৌষ আর মাঘে বসে

সবজির মেলা

কিশোরের মনে থাকে

মাঠে হবে খেলা।।

পৌষ আর মাঘ মাসে

ভয়ে থাকে বৃদ্ধ

কনকনে শীত নিয়ে

তারা করে যুদ্ধ।

পৌষ আর মাঘে আসে

শিশুদের জ্বর

সর্দি কাশি সাথে থাকে

তাই নিয়ে ডর।

পৌষ আর মাঘ মাসে

কেউ কেউ ঘুরে

বিদেশের পাখি আসে

এই দেশে উড়ে।

অতুলনীয় মা

নাজমুল হাসান পদ্য

মায়ের সাথে হয় না তুল্য

অন্য কোনো কিছু

তাইতো আমি সদা থাকি

মায়ের পিছু-পিছু।

মা যে হলো চোখের মণি

মুখের মিষ্টি ভাষা

মা-মা ডাকলে মনের

জুড়ায় সকল আশা।

আমার গাঁয়ের স্মৃতি

শামীমা জান্নাত শিউলী

ভালো লাগে আমার গাঁয়ের

পথের ধূলিকণা,

সেথায় আছে ছেলেবেলার

হাজার স্বপ্ন বোনা।

পথে ঘাটে পুকুর পাড়ে

কত স্মৃতির মেলা,

পাড়ার সখী সবাই মিলে

করতাম কত খেলা।

আমার গাঁয়ের আঁকাবাঁকা

মেঠো পথের সারি,

মিশে আছে পায়ের ধুলি

ভুলতে নাহি পারি।