খোকার নালিশ

কবির কাঞ্চন

যাচ্ছে খোকা ট্রেনে চড়ে

ছোট্ট মামার বাড়ি

ইস্টিশনে মামা আছেন

নিয়ে নিজের গাড়ি।

কমলাপুরে নেমে খোকা

মামার হাতটা ধরে

বলল বুকের যত কথা

একটি একটি করে।

কে মেরেছে কে বকেছে

কে দিয়েছে ঝাড়ি

ছোট্ট মামা ভীষণ ত্যাড়া

মটকাবে ঘাড় তারই।

বলল খোকা শোনো মামা

পড়ার কথা বলে

তোমার বোনে নিত্য মারে

আবার কানে মলে।

পড়তে আমার ভাল লাগে না

খেলতে লাগে ভালো

একটু বেশি খেলি বলে

লাল করে দেয় গালও।

এসব শুনে ছোট্ট মামা

হা হা করে হাসে

তন্দ্রা শেষে খোকা দেখে

মা যে তারই পাশে।

চাষি

শাকেরা বেগম শিমু

ভোর না হতেই উদল গায়ে

মাঠ পানে কে যায়?

তাদের শ্রমে দেশের মানুষ

সোনার ফসল পায়।

কাস্তে, ছুরি, শাবল দিয়ে

জমি করে চাষ,

সেই জমিরই ফসল লোকে

খায় যে বারো মাস।

অক্লান্ত শ্রম ঢেলে দিয়ে

ফসল ফলায় চাষি,

তাও করে না গর্ব কোনো,

মুখে সদাই হাসি।

রৌদ্রে পুড়ে কাজ করে সে,

মেঘের জলে ভিজে,

পরের মুখে অন্ন তুলে

আনন্দ পায় নিজে।

সবুজ দেশের সোনার ছেলে-

চাষি তোমার নাম,

সোনার ফসল ফলাও তুমি

ঝরাও নিজের ঘাম।

বিজয় মানে

নাজীর হুসাইন খান

বিজয় মানে মুক্ত বাতাস

মুক্ত আকাশ নীল

বিজয় মানে শাপলা শালুক

পদ্ম ফোটা বিল।

বিজয় মানে ফুল বাগানে

প্রজাপতির মেলা

বিজয় মানে মুক্ত মাঠে

ছেলে মেয়ের খেলা।

বিজয় মানে মায়ের ভাষার

গান কবিতা ছড়া

বিজয় মানে বাংলা ভাষায়

বলা এবং পড়া।

বিজয় মানে মা বোনদের

ইজ্জত ও সম্মান

বিজয় মানে বীর বাঙালির

মহৎ অবদান।

বিজয় মানে ইতিহাসের

স্মরণীয় দিন

বিজয় মানে স্বাধীন মনে

বাজাই সুখের বীণ।

বিজয়

সোহানুজ্জামান মেহরান

বিজয় আমার গল্পগাঁথা

অল্প কথার নয়,

একটি সাগর রক্তে পাওয়া

আপন পরিচয়।

সেই পরিচয় যায় না মাপা

আকাশ কাঁপা বাতাস কাঁপা

রুদ্ধশ্বাসের যুদ্ধ থেকে

ছিনিয়ে আনা জয়।

ভিনদেশীদের ছিন্ন থাবায়

বুকটি চাবায় ভীষণ ভাবায়

বীর শহীদের তির খাওয়া দিন

যদি মনে হয়।

বিজয় আমার গল্পগাঁথা

অল্প কথার নয়,

তাই পৃথিবীর মধ্যে এদেশ

চির গৌরবময়।

পতাকার হাসি

এম আব্দুল হালীম বাচ্চু

সূর্য ওঠে পুব আকাশে

সবুজ বাংলার বুকে

রঙিন স্বপ্নে বিভোর হয়ে

দেখি মনের সুখে।

বিকেলবেলার নরম রোদে

ফুল পাখিরা গায়

এসে গেছে বিজয় দিবস

আমাদের বাংলায়।

পথের ধুলায় একাত্তরের

গন্ধ ভেসে আসে

সবুজ মাঠের রোদে যেন

পতাকার রং হাসে।

বীর শহিদদের রক্তে কেনা

ষোলোই ডিসেম্বর

লাল সবুজের পতাকার মান

রাখব জীবনভর।

গাই বিজয়ের গান

জয়নব জোনাকি

আমার মায়ের বুকের তাজা

খুন ঝরানো প্রাণ

ইতিহাসে থাকবে গাঁথা

রবে যে অম্লান,

লাল-সবুজের নিশান হাতে

গাই বিজয়ের গান।

সাগর-নদী ঝরনা ধারায়

আসলো ঐক্যতান,

রবি-শশীর গা ছুঁয়ে আজ

নামলো আলোর বান,

চারদিকে ঐ শোনা যায়

বিজয় কলতান।

কতো ভাইয়ের ত্যাগের মাঝে

করলো জীবন দান,

সবার মুখে ফুটলো হাসি

বাড়লো দেশের মান

এ বিজয়ের হয় না যেনো

কোনো অপমান।

গাছের ডালে পাখি

গিয়াস হায়দার

গাছের ডালে পাখি

মেলে দেখি আঁখি

রোদ্র ছায়ার ফাঁকে

খুকু ছবি আঁকে।

মিষ্টি পাখির ছানা

ধরা কিন্তু মানা

আসছে পাখি ঝাঁকে

পিউ পিউ ডাকে।

হাসছে মিষ্টি ঠোঁটে

দারুণ লাগে জোটে

বৃষ্টি যখন আসে

মা যে ছানার পাশে।

পরীর দেশে

ইবনে আলাউদ্দিন

প্রজাপতির ডানায় চড়ে

খোকা কুমার বেশে

সাদা সাদা মেঘ সরিয়ে

গেল পরীর দেশে।

দেখল খোকা পাখনা মেলে

নীল পরীরা উড়ে

ফুলে-ফলে ভরে আছে

পরীর দেশটা জুড়ে।

রাত্রি হলে চাঁদের আলোয়

নাচে এঁকেবেঁকে

মনের সুখে খেলে তারা

গায়ে জ্যোৎস্না মেখে।

পরীর দেশের পরী দেখে

উঠল খোকা হেসে

শুভ্র মেঘের ভেলায় চেপে

ফিরল বাড়ি শেষে।