রোজা

সায়ীদ আবুবকর

তুললে পানি থেকে, বুঝতে চাই কত কষ্টে থাকে মাছ

তুললে মাটি থেকে, বুঝতে চাই কত কষ্টে থাকে গাছ।

ছিঁড়লে বোঁটা থেকে, বুঝতে চাই কত কষ্ট পায় ফল

শুকালে ঝিল, পায় অল্প জলে কত কষ্ট শতদল।

বৃষ্টি বিহনে কি যন্ত্রণায় মরে নেতিয়ে পড়া বন

বুঝতে চাই আর ভেজাতে চাই শোকে চাতক দু-নয়ন।

যাদের বারো মাসই রোজার মাস, যারা পায় না তিলাহার

বুঝতে চাই সেই নিরন্নের ব্যথা, কাঁদতে চাই আর।

আমার এই রোজা কেবল নয় মহাপ্রভুর স্তব

বরং পৃথিবীতে সাম্যবাদী এক মহান বিপ্লব।

ইনসাফ ইনকিলাব

শওকত আলম

একটি গদ্যের জন্যে লাখো জনতার ঢল,

সংসার জ্বালানি তৈল হাজারো প্রশ্ন ছল।

রক্তাক্ত অক্ষর ভেজে আগুনে পোড়ালে শব,

শেষ কলমাটা স্মরে বারবার জপে রব।

ঘোরতর বাড়াবাড়ি মিছিল মিটিংয়ে ব্যস্ত,

গন্ধ লাশের কফিন দেশ অগ্নিগর্ভে আস্ত!

ইটেরঘাঁ পোঁড়ামাটি নগরসড়ক কৃমা!

আবালবৃদ্ধবণিতা ক্ষুধার্ত নঙ্গর সীমা।

বিশ্বের মানবতায় বিশ্বাসঘাতক হাত!

পোঁড়ামুখে ধোঁয়াসাকে স্বজাতি পোড়ায় জাত!

জ্বলেপুড়ে খাক ছাই শেষট্রেনে উদম্বর,

আজাদী পতাকা দোলে সৌধ্য আড়ম্বর।

অশ্রুসিক্ত শহীদের শমসের নামজারি,

ইনসাফ হায়দার শ্লোগানে বিদীর্ণসারি।

মুমিন হৃদয়ে বসন্ত

আর. কে. শাব্বীর আহমদ

মুমিন হৃদয়ে বসন্ত আসে

মাহে রমাদানের ওহীর সওগাতে

যেমনি বসন্ত আসে গভীর অরণ্যে

সবুজের গুঞ্জরণে।

যে বসন্তের আগমনে হৃদয়-কাননে ফোটে

শুদ্ধতার ফুল-ফসল

চেতন-মনে লাগে শুভ্রতার শিহরণ

রহম-ধারায় জ্বলে ওঠে ঐশী আলোর মশাল।

যে আলোয় বিদূরিত হয় জাহেলী জুলমাত

চোখ মেলে মুক্তির সোনালি সূর্য

বইয়ে দেয় শান্তির সুবাতাস তপ্ত জমিনে

জেগে ওঠে নাজাতের নতুন স্বপ্ন।

দীদারে ইলাহীর সীমাহীন আরশের ঔজ্জ্বল্যে

অন্তর হয় আত্মশুদ্ধির শুচিতায় বিস্তৃত বিশাল।

অস্তিত্বের শূন্যতা

সাগর আহমেদ

একদিন মৃত্যুর সংবাদ দিয়ে সব অভিমান ফিরিয়ে দেবো

হারিয়ে যাবো নক্ষত্রের পথে

একটি মৃত্যুই তোমাকে ফিরিয়ে আনবে

যেমন করে হারিয়েছো ছলেবলে কৌশলে।

বেঁচে থেকেও মরেছি ছোট ছোট অসংখ্য বার

সিগারেটের কালো ধোঁয়ায় নিজেকে

মেরেছি মাইগ্রেনের ব্যথায়

রোজ মরেছি নিদারুণ যন্ত্রণায়,

মরেছি তোমার অজস্র অবহেলায়।

জমাট বাঁধা অভিমান বুকে নিয়ে নিয়ে যাবো

পরিশ্রান্ত শিশুর মতো ঘুমিয়ে থাকবো গভীরে

সেদিন আমাকে পেয়েও পাবে না তুমি

মৃত মানুষের ছায়া থাকে না, না থাকে সঙ্গী।

কিছু ক্ষত, কিছু পোড় খাওয়া যন্ত্রণা নিয়ে

পরের জন্মেও সহস্রকোটিবার জন্মাতে চাই

প্রণয়নের অপূর্ণ গল্পগুলো পূর্ণতা দিতে

তোমার শহরে দেয়ালের কারুকাজ হয়ে।

কেন জন্মেছি

মিঠুন দত্ত

স-মিলে পড়ে থাকা গাছের ডোম

আমার চেয়ে বহুত ভালো;

পরকে সাজাতে করাতের ধারালো দাঁতে শরীর পেতে দেয়।

আমার চেয়ে ভালো ওই রাতচরা পাখিরাও,

প্রতি প্রহরেও কিচিরমিচির কলরবে

মনে করে ঐক্যের গান গায়।

আমার চেয়ে সাহসী ওই মশাটাও,

মৃত্যুর বুকে বসে গড়ে তুলে বাঁচার মনোবল।

জলে ভিজে না কচুপাতা

অথচ আমি ভিজে যাই।

নদীর বুকে এত জল তারপরও খুঁজে সমুদ্রঅতল

অথচ কীভাবে মানি বলো আমার চোখ টলমল!

আমার চেয়ে ভালো ওই কুকুরটাও,

নিজ খড়ঘরেরও টান বুঝে!

আমার চেয়ে ভালো পেত্নীগুলোও,

পতিত বাড়ির মায়ায় ডুকরে ডুকরে কাঁদে!

আমি মানুষ কোথায়,

কোথায় শ্রেষ্ঠত্বের সিগনেচারসহ স্মারকলিপি?

আমার দেহের পোস্টমর্টেম চাই―

কেন জন্মেছি বৃথাই,

কেন এই খামহারা চিঠি?

গল্পটা ২৪ এর

শিমুল হোসেন

বাবা রাতের অন্ধকারে

আমাকে কোলে তুলে রেখেছিলেন-

বলেছিলেন, খোকা শোন,

অজস্র গুলির শব্দ মানে মুক্তির সম্ভাষণ।

আমি কিছুই বুঝিনি

শুধু শুনেছি সকালে থেমে গেছে গুলি,

দেখেছি বাবার কাঁধে লেগে আছে

আমার গায়ের ধূলি।

কিন্তু চোখে-মুখে ছুটছে আলো একরাশ

সেই আলোতেই আমি পেয়েছি বিশ্বাস।

তোমাকে মনে হয়

মোর্শেদা মৌ

কখনো তোমাকে মনে হয় -

শরতের শুভ্র আকাশের সাদা মেঘের ভেলা

যার দিকে তাকালে মন ভরে যায় নিমিষে,

একরাশ প্রশান্তিতে বেড়ে যায় উচ্ছলতা।

কখনো তোমাকে মনে হয় -

কোনো এক স্নিগ্ধ সকালের নতুনত্বের বাহক,

যার সোনা রোদে দেহমন ঝলমল করে ওঠে

আর নব উদ্যমে সুন্দরতম দিনের সূচনা করে।

কখনো তোমাকে মনে হয় -

খরতাপে পুড়ে যাওয়া নির্জন দুপুর,

যার দিকে তাকালে চোখ ঝলসে যায়

অন্তরের সব সজীবতা পুড়ে খাক হয়ে যায়।

একটু স্পর্শের জন্য ছটফট করে দগ্ধ হৃদয়

বিনিময়ে পাই বহ্নি হাওয়া, দাবানলের প্রখরতা

শ্বাস নিতে পারি না, নেতিয়ে পড়ি, চুপসে যাই।

কখনো তোমাকে মনে হয় -

বসন্তের দখিনা বাতাসের সুরভিত মন

যার পরশে হৃদয়ে জাগে প্রাণের স্পন্দন।

কখনো তোমাকে মনে হয় -

কুয়াশার আবরণে অস্পষ্ট কেউ একজন

যে অচেনা, আবছা আলোয়ে হারিয়ে যায়,

দূর থেকে মনে হয় মৃন্ময়ী কাপালিক।

যে খড়গ হাতে দাঁড়িয়ে আছে...

আঠারো বছরে তিলতিল করে গড়ে ওঠা

বিশ্বাস, ভক্তি, সম্মান, শ্রদ্ধা ভালোবাসাকে

বলি দেয়ার জন্য।

মুক্তির কবিতা

রানা হোসেন

সংগ্রামের মধ্যে লিখছে কবিতা, কবি জীবন কারাগারে!

সংগ্রাম করে কবি বারবার মুখোমুখি হয়েছে,

জীবনের নানা গলি

তবুও স্মৃতির কোন জানালায় আলোয় মিছিলে

চোখের সামনে স্বপ্নজাগে বেঁচে থাকার

প্রতিবাদ করার।

কিন্তু কবি পাঠ করেন জীবনের কাব্য

সত্য কথা বলা ছাড়া জীবনে চাওয়ার নেই,

প্রজাপতির মতো উড়তে চায়

চায় বাংলা মায়ের মুখে হাসি

অন্যায় চায় না, সত্য সুন্দর জীবন ছাড়া

আকাশে কি অন্ধকার জমে

গভীর অন্ধকারে মুক্তির কবিতা কে করছে পাঠ?

সূর্য উঠেছে আজ, কাগজের পাতায়

শব্দের বন্যায় ভেসে ওঠে স্বপ্ন ভরা দিন

দ্রুত বার্তা পেঁৗঁছে দেয় আকাশে বাতাসে

বন্দি কারাগারে থেকে মুক্তির কবিতা লিখবেই কবি

নতুন করে জীবনের জন্য, আগামীর বাংলাদেশের জন্য।