মানুষ হওয়া

আবদুল হাই শিকদার

ভোরবেলাকার দোয়েল বলে ভাই

বাঁচতে হলে উড়াল জানা চাই।

জ্ঞানগম্যি যেখানে যা-ই পাও,

পুরোটা তার মাথায় তুলে নাও।

দুপুরবেলার ঘুঘুও ডাকে তাই,

এই পৃথিবীর সকল মানুষ

তোমার আমার ভাই।

কঙ্গো, শ্যানন, টেমস্কে যেমন

বুড়িগঙ্গায় পাই।

ফিলিস্তিনে মানুষ মরে

বিশ্বজুড়ে এত্তো মানুষ

তবু তাদের দেখার তো কেউ নাই,

ঘাতক এবং দর্শকদের

ক্যামনে ডাকি ভাই!

অমানুষদের মানুষ করার যন্ত্র কোথায় পাই?

সে সন্ধানে ব্যাকুল যারা সে মানুষকে চাই।

ভূত তাড়িয়ে দেশটা করো আলোয় আলোকময়,

সে গৌরবে কাটবে দ্রুত অমঙ্গল, সংশয়,

-মানুষ হওয়ার গর্ব তখন বাড়বে নিশ্চয়।

রক্তের বর্ণমালা

জসীম উদ্দীন মুহম্মদ

শহরের আকাশে ঝুলছে অদৃশ্য এক উচ্চারণ

আর মাটির নিচে ঘুমিয়ে থাকা অক্ষরগুলো কাঁপছে

কারা যেন রাতের ভেতর বীজ বুনে গেছে

সেগুলো থেকে জন্ম নেয় শব্দ, লালচে পাপড়ি।

আমি কান প্রতে শুনি, ফেব্রুয়ারির কুয়াশা কথা বলে

তাদের স্পষ্ট ভাষ্য, ভাষা মানে কেবল ধ্বনি নয়

ভাষা একটি নদী, যার স্রোতে ভেসে যায় ভয়।

রাস্তায় পড়ে থাকা ছেঁড়া জুতো হঠাৎ জেগে ওঠে

সেই জুতোর ফিতে থেকে বেরোয় রক্তের বর্ণমালা

একটি একটি দেয়াল তার ইটগুলো খুলে ফেলে

আর চোখের পলক পড়ার আগেই তারা হয়ে ওঠে

গগনবিদারী উচ্চারিত প্রতিবাদ....

অথচ সবাই জানে, মায়ের মুখের ভাঙা স্বরধ্বনি

পৃথিবীর মানচিত্রে নতুন নতুন মানচিত্র আঁকে

সেই দেশ, যেখানে শব্দই ভাষা আর ভাষাই স্বাধীনতা!

আত্ম বিক্রি

মোশাররফ হোসেন খান

মানুষ কত সহজে বিভ্রান্ত হয়ে যায়

তার চেয়ে একটি চড়ুই অনেক বেশি সতর্ক

একটি মাছি

একটি মশা

কিংবা পশু।

প্রপিতা ও পিতার উত্তরসূরী হিসাবে

যা কিছু পেয়েছিলে

তার সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছো নেহায়েত অবহেলা বসত

শিক্ষা

সংস্কৃতি

প্রজ্ঞা ---

একে একে সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছো

শেষ পর্যন্ত আত্মপরিচয়ও।

আহ্ !

মানুষ কত সহজেই নিজেকে বিক্রি করতে পারে!

মানুষ কীনা পারে?

একটি জীবনের জ্ঞান প্রজ্ঞা ইতিহাস ঐতিহ্য অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ

সকল কিছু বিক্রি করে

এক প্যাকেট সিগারেট পকেটে ভরে

কিম্বা একটি লেবুনচুষ মুখে পুরে

পরম প্রশান্তিতে তৃপ্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে।

যেন নিজেকে বিক্রির মতো

পরম পরিতৃপ্তি আর কিছুতেই নেই!

হে মানুষ!

এই যে আলো বিক্রি করে অন্ধকার কিনে আনলে,

এর জন্য একদিন পস্তাতে হবে

কাঁদতে হবে অনন্তকাল...!

বাংলা

আহাম্মদ উল্লাহ

সমস্ত ভাঙাচোরা কথা জুড়ে দেই

অসুখে, নয়ন সজলে সাহায্যর কথা বলি আদ্র চোখেমুখে।

সেতু ধরে হাঁটি। পথে প্রান্তরে।

বাংলায়।

হাসির খলখল শব্দে মনের কথা উজাড় করি

রোদন করি

নিদ্রায় আগে ক্ষুদ্র আলাপ “শুভরাত্রি।”

বাংলায়।

কালির দোয়াত থেকে বর্ণপরিচয়ে, পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা

বিয়োগান্তক চিঠি

কবিতা কিংবা প্রেমপত্র পান্ডুলিপি

বাংলায়।

দোয়েলের শিষ

হরিণের চোখ

শঙ্খিনীর সংসার

মায়ের ঘ্রাণ

অনুবাদ করি বাংলায়।

সভা,সমাবেশ, স্লোগান

রাজপথে পদযাত্রা

আমাদের বিজয়

বাংলায়।

সংসার

সঞ্চিত জীবন

জন্ম থেকে মৃত্যু চক্র

বাংলায়।