হেমন্ত: সোনালি বাংলাদেশ
জাকির আবু জাফর
কেনো যেনো মনে হয় মানুষের মুখেও
সোনালি রঙ থাকা চাই, যেমন থাকে ধানী-ঋতু হেমন্তের মুখে!
অন্তত, মানুষের স্বপ্নের রঙ হোক সোনার বরণ,
হাসিতে মুক্তা শুধু নয়, ঝরুক সোনার পসর!
একবার একটি নদীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম-
নদীও কি হয় সোনালি! কখন হয়! নদীর ইংগিতও হেমন্তের দিকে।
বললো- স্রোত-ঢেউ শুকিয়ে চিকচিক উদ্ভাসনে যখন আসে
কমলা-হলুদাভ-রোদ !
প্রতি হেমন্তেই ফোটে সোনালি বাংলাদেশ
প্রতি হেমন্তেই হাসে ধানের জগৎ
ভাসে শেফালির স্নিগ্ধ গন্ধ
যখন শিউলি-ঘ্রাণ টানে প্রাণের সুখ
খুশিমুখো হাসির রঙও ঠিক হেমন্তময়!
সোনার ঋতুর ঐশ্বর্যে ঝরে ছাতিম-শিশির
এ শিশির ধুয়ে দিক মানুষের কষ্ট-দুখ
ধুয়ে দিক অপরাজনীতির নৃশংসতা
সোনাঋতুর রাজস্বে হেসে ওঠুক বাংলাদেশ!
সময়ের দোলাচল
এ কে আজাদ
কোথাও কি কিছু হয়েছে?
নাহ্, কোথাও কিচ্ছু হয়নি।
সবটুকু মরীচিকা শুধু!
ফসলের মাঠ পড়ে থাকে বিরান ধুধু।
কোথাও পড়েনি বৃষ্টির ফোঁটা,
কিংবা শিশিরের বিন্দু বিন্দু কণা।
খাঁটি বলে কিছু নেই আর অবশেষ,
যত আছে সবই দেখি নকল সোনা!
কোথাও ফোটেনি’ক ফুল,
কেবলই মিথ্যার হুলুস্থুল।
কোথাও জমেনি’ক কবিদের আসর,
কেবলই স্বার্থপর দানবদের বাসর।
কোথাও ওঠেনি’ক চাঁদ কিংবা তারা,
কোথাও জমেনি মানুষের মেলা,
কেবলি চেতনার খাঁড়ায় কেটে যাওয়া
ডাইনির মচ্ছব সারাবেলা।
যেখানে ফুলের বাগান নেই,
সেখানে কি করে ফোটে কোন ফুল?
যেখানে মানুষের মাথা নেই,
সেখানে কি করে দেখি বিদ্রোহীর ঘন চুল?
দ্রোহের দিন গেছে, রাত গেছে,
জেগে আছে কেবলই রাত্রির কোলাহল,
মিথ্যার অপলাপে সয়লাব দিন রাত,
জীবনের পাতা জুড়ে চেয়ে দেখি-
নিঃশ্বাসটুকুই হলো সময়ের দোলাচল।
আমার কবি হওয়া হয় না
শাহীন সুলতানা
কবিরা কবিতা লেখে, তাতে থাকে চাঁদের রোশনাই,
আর আমি হা করে তাকিয়ে দেখি তাদের কেরামতি;
অথচ আমার কবি হওয়া হয় না...।
কাটাকুটি করতে করতে কলমের মাথা যায় ভেঙে!
টেবিলের তলা, মায়ের ডাস্টবিন, ঘরের জলচৌকি
আর খাটিয়া ছেঁড়া কাগজে ভরে হয় কাগুজে পর্বত;
চোখের মাছরাঙা ঘুমও পালায় চার ক্রোশ দূরে।
শব্দের পিঠে শব্দ বসাতে গিয়ে জড়ো করি শব্দের
জঞ্জাল; ট্রেন লাইনের মতো বাক্য লিখি দাঁতভাঙা শব্দে।
বহতা নদীর মতো যার হওয়ার কথা ছিল সে লেখা
কবিতা না-হয়ে হয়ে ওঠে দুর্বোধ্য গিরিখাত!
তাতে না থাকে চিত্রকল্প আর না থাকে অলংকারের বিন্দু।
অথচ মায়াজাল ছাড়া কবিতা তো জড়িয়ে থাকে না
পাঠক হৃদয়ে! তবু আটপৌরে শাড়ির মতো নিজের
হযবরল- কবিতাকে সাজিয়ে রাখি মনের দেয়ালে।
আমার কবি হওয়া হয় না... নির্ঘুম চোখে দেখতে থাকি
চাঁদের রোশনাই।
ডুমুরের ফুল
শফিকুল মুহাম্মদ ইসলাম
মনে পড়ে বহুদিন, চিঠি তো লেখি না;
ডুমুরের ফুল তুমি; তোমারে দেখি না।
চলে গেলে বহুদূর, কোনো দেখা নাই;
আজো এই হৃদয়ে ফিরে পেতে চাই!
কেউ তো বলে না তব স্বরে সেই কথা;
ভালোবাসি ভালোবাসি’ তা’ নয় অযথা!
ফিক করে হেসে দিলে; গালে পড়ে টোল,
কে শোনাবে দরদিয়া সুমধুর বোল!
বেলাশেষে মুখোমুখি পাশাপাশি এসে;
না বলা সে কথাগুলো যেতে রোজ খসে!
সময়ের ব্যবধানে সবকিছু মেকি;
দাদুরী কাঁদানো সন্ধ্যা উদাসীন সে কী?
চাতকের মতো তবু ছটফট করে,
বৃষ্টিহীনে যাব দেখো একদিন মরে!
বলেছিলে কোনোদিন যাবে নাকো ভুলে
পাতবে না সংসার এ দুনিয়ার কূলে!
সব হলো, সব হলো; কথা হলো মিছে,
বৃথা গেলো স্বপ্নআশা; ঘুরে তব পিছে!
চেয়ে থাকি নীলাম্বরে উঠে কবে শশী;
সব ভুলে ফিরে এসো মুখোমুখি বসি!