স্বাধীনতা দেখেছি
জয়নুল আবেদীন আজাদ
পাখির পালকে আমি স্বাধীনতা দেখেছি
দেখেছি বৈশাখী বাতাসের তীব্র প্রবাহে,
স্বাধীনতা দেখেছি আমি
সাগরের সফেদ সৌরভে।
স্বাধীনতা জ্বলজ্বল জেগে আছে
লাঙলের শাণিত ফলায়,
স্বাধীনতার শিকড় পবিত্র জমিনে
উ”ছ¡াস বীজের অঙ্কুরিত ফসলে।
স্বাধীনতা দেখেছি আমি
মুক্তিকামী জনতার উষ্ণ হৃদয়েÑ
দেখেছি নিপীড়িত মানুষের
একান্ত উ”চারণে।
জলে ¯’লে অন্তরীক্ষে
একটাই অমোঘ আকাক্সক্ষা
স্বাধীনতা স্বাধীনতা,
স্রষ্টার বিশাল বিশ্বে
একটাই সম্পূরক শৃঙ্খলা
স্বাধীনতা স্বাধীনতা।
মুমিন হৃদয়ে বসন্ত
আর. কে. শাব্বীর আহমদ
মুমিন হৃদয়ে বসন্ত আসে
মাহে রমাদানের ওহীর সওগাতে
যেমনি বসন্ত আসে গভীর অরণ্যে
সবুজের গুঞ্জরণে।
যে বসন্তের আগমনে হৃদয়-কাননে ফোটে
শুদ্ধতার ফুল-ফসল
চেতন-মনে লাগে শুভ্রতার শিহরণ
রহম-ধারায় জ্বলে ওঠে ঐশী আলোর মশাল।
যে আলোয় বিদূরিত হয় জাহেলী জুলমাত
চোখ মেলে মুক্তির সোনালি সূর্য
বইয়ে দেয় শান্তির সুবাতাস তপ্ত জমিনে
জেগে ওঠে নাজাতের নতুন স্বপ্ন।
দীদারে এলাহীর সীমাহীন আরশের ঔজ্জ্বল্যে
অন্তর হয় আত্মশুদ্ধির শুচিতায় বিস্তৃত বিশাল।
সকাল আর দরজায় কড়া নাড়ে না
জসীম উদ্দীন মুহম্মদ
সকাল এখন আমাদের দরজায় আর কড়া নাড়ে না
সে হেঁটে হেঁটে আসে... পেছন দিকের আয়না দিয়ে
আমি চায়ের কাপে আকাশ ঢালি, চিনি গলে যায়
চিনি গলে যায়...সময় গলে যাওয়ার মতোন!
জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখি শহরটি হাঁপানি রোগী
লিফটের ভেতর আটকে থাকে হাজারো দীর্ঘশ্বাস
তবুও পাখিরা আজ বিজ্ঞাপন বোর্ডে বসে, তার ডানায়
লেখা “ছাড়”! সবাই শুয়ে থাকে, কেউ কাউকে ডাকে না।
ঘড়ির কাঁটা জিভ বার করে, মিথ্যে মিনিট চেটে নেয়
ফুটপাথে পড়ে থাকা আলো তুলে নিই, পকেটে রাখি।
তাতে হাত পুড়ে যায়, তবুও অন্ধকার কমে না
সবাই জানে, সব যুগেই প্রেম একটি ভুল ঠিকানা
যে কিনা বারবার ফিরে ফিরে আসে খালি খামে
তবুও এখন আমরা কেউ সকালের প্রেমে পড়ি না!
মায়ের কণ্ঠ ভেসে আসে লোহার পাইপের ভেতর
আমি মাথা নত করি, শব্দগুলো প্রার্থনায় বদলে যায়
ট্রাফিক সিগন্যাল লাল হলেও রক্তক্ষরণ থামে না।
মানুষের চোখে আজ লকডাউন, স্বপ্নের দোকান বন্ধ
আমি হাঁটি, কিš‘ পথটি আমার ভেতর দিয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত কামুক রাত এসে আমাকে খুলে দেখে
সকালের ভেতরে আজব নিরবতার লাল, নীল শার্ট!
অন্ধকার জ্বালিয়ে রেখেছি
মুসাফির জিয়া
তোমার আলোর প্লাবনে
নিভুনিভু আমার মোমবাতি
তাই অন্ধকার জ্বালিয়ে
নিজেকে বিনাশ করার অপচেষ্টা!
এখন সজ্ঞানে জেনে গেছি
নিজের সীমাবদ্ধতা।
আমার তু”ছ এ কবিতায়
তোমার নাম উল্লেখ করাটাও
নিতান্ত বোকামি!