আঁকব আমি

সাকী মাহবুব

আঁকব আমি প্রজাপতি

আঁকব আমি ফিঙে

আঁকব আমি কলমিলতা

আঁকব আমি ঝিঙে।

আঁকব আমি বনবনানী

আঁকব আমি মাঠ

আঁকব আমি নদী নালা

আঁকব আমি ঘাট।

আঁকব আমি দোয়েল পাখি

আঁকব আমি ফুল

আঁকব আমি মায়ের ছবি

আঁকব আমি দুল।

আঁকব আমি ডিঙি নৌকা

আঁকব আমি নাও

আঁকব আমি দেশের ছবি

আঁকব আমি গাঁও।

নতুন বছরে চাই

সফিউল্লাহ আনসারী

নতুন বছরে চাই নতুনের আলো

পুরনো ভুল মুছে চাই যা ভালো।

আলোকিত দিন চাই, কবিতা পাঠে

খুশির জোয়ার চাই ফসলের মাঠে।

পাখিদের সুরে চাই মুখরিত ভোর

স্বপ্ন ছড়িয়ে দাও দূর বহুদূর।

বিভেদের অবসানে বাড়ুক আশা

শিশুদের কোলাহলে ভালোবাসা।

শান্তির সুবাতাসে ভরুক এ ধরা

হাসিখুশি চাই আরো সব মনোহরা।

ওসমান হাদি

নাজীর হুসাইন খান

কে ছিলো সে বীর?

বাঁচতে চাইলো সগর্বে আর

উঁচু করে শির।

সত্য ন্যায়ের পক্ষে ছিলো

সৎ সাহস তার বক্ষে ছিলো

লক্ষ ছিলো বেশ

গড়বে সোনার দেশ।

অন্যায় অবিচার

সব পায়ে দলতো

সর্বদা ন্যায়নীতি

হক্ব যেটা বলতো।

সেই ছিলো মহাপুরুষ

আরেক তিতুমীর

বাংলার নব বীর

বুক ভরা সাহস আর

খুব প্রতিবাদী

সেই হলো আমাদের

ওসমান হাদি।

শীতের পিঠা

জাকির সেতু

ছুটির দিনে মামার বাড়ি

চল রে সবাই, চল।

একসাথে ঘুরে বেড়াই

আমরা নবীন দল।

শীতের দিনে মামার বাড়ি

খেজুর রসের মেলা

মিষ্টি রসে মুখে যেন

লাগে সুখের দোলা।

চিতই পিঠা, ভাপা পিঠা

রসের পিঠার সারি

তাড়াতাড়ি খুকি, তোমার

দাওনা ভেঙে আড়ি।

গাঁয়ের শীত

নিলুফা ইসলাম

পিঠাপুলির ধুম লেগেছে

আমার ছোট্ট গাঁয়ে

খেজুর গাছে রসের হাড়ি

পথের ডানে বাঁয়ে।

পাঠালি আর নলেন গুড়ের

রান্না করা পায়েস

মধুর সুবাস ছড়ায় তাতে

খেতে বেজায় আয়েশ।

পলো নিয়ে যিনি নামে

গাঁয়ের নদী নালায়

আউল বাউল গানের আসর

পুতুল নাচে পালায়।

ঘাসের উপর শিশির কণা

বিন্দু বিন্দু জল

সরষে ফুলের মধু খেয়ে

অলি বাড়ায় বল।

একটুখানি বিজ্ঞান

শাহানাজ শিউলী

ছোট্ট খুকির প্রশ্ন মনে

আকাশ কেন নীল?

আজব দেহের মানব কেন

পাই না দেখা দিল?

বাতাস কেন পাতায় নাচে

পানি নিচেই যায়?

চুল কাটলে পাই না ব্যথা

ব্যথা কেন গায়?

শূন্যে কেমন রকেট ওড়ে

জাহাজ নদীর বুকে?

আলোর মশাল কেমন করে

আঁধারটাকে রুখে?

বীজগণিতের চলকরেখা

কেমনে করে খেলা?

জ্যামিতিতে বসায় কেন

শত রেখার মেলা?

সব প্রশ্নের জবাব পেতে

বিজ্ঞানে হাতে রাখি,

নতুন দিনের স্বপ্নগুলো

বিজ্ঞানেতেই আঁকি।

সরিষা ফুল

মাসুদ রানা

সরিষা ফুল, সরিষা ফুল

পদ্মা পাড়ে ভরা দু-কূল,

মৌমাছি এসেছে নেচে

হলুদ সাজে ভরে গেছে।

রাখাল ছেলে বাঁশি হাতে

যাচ্ছে গরুর পালের সাথে,

সরিষা ফুল ভরা মাঠে

মটরশুঁটি খাচ্ছে উঠে।

শিশির ঝরা ঘাসে ঘাসে

মিঠেল রোদে হাসে হাসে,

হলদে হাওয়া সুখে সুখে

মধু নিচ্ছে মুখে মুখে।

সর্ব শক্তিমান

আনোয়ারুল ইসলাম

এই যে নদী, নদীর ধারা

সৃষ্টি করেন কে?

ধরার বুকে দিনে রাতে

আলোর প্রভূ যে।

মাঠে মাঠে মৃদু হাওয়া

জুড়ায় মনো-প্রাণ

এই হাওয়াতে দোল খেয়ে যায়

পাকা ধানের ঘ্রাণ।

সকাল হলে পুব আকাশে

ওঠে আলোর রবি

সেই আলোতে দেখি সে যে

নিখিল বিশ্বের ছবি।

কে করেছে সৃষ্টি এসব?

অপরূপে সেরা

এ ভুবনে সবার তরে

স্বপ্ন মায়ায় ঘেরা।

সবুজ শ্যামল শস্য ভরা

সব যে স্রষ্টার দান

অসীম তিনি তুলনাহীন

সর্ব শক্তিমান।