আমাদের ইশকুলে

শফিকুল আলম টিটন

আমাদের ইশকুলে স্যার খুব কড়া

পড়াচোর, ফাঁকিবাজ সব খায় ধরা ।

ক্লাসে এসে বসলেই নট নড়াচড়া

ইশকুল যেনো তার আদর্শে গড়া ।।

গুতোগুতি হাতাহাতি দুষ্টামি ফিকে

ছানাপোনা হেলে যায় উঠোনের দিকে ।

রোদ এসে লুটোপুটি খায় গড়াগড়ি

ছুটে যাই ইশকুলে তাই পড়িমড়ি ।।

আদরেতে শিশুদের পাঠ দেন গুরু

পাঠে নিজে সুখ পান অন্তরে পুরু।

পাখিগুলো জড়ো হয় ইশকুল মাঠে

আঁধার সে খায় খুঁটে ক্ষুধা তার কাটে ।।

ইশকুল ছুটি হলে সুমধুর রোল

কেউ খেলে ফুটবল, কেউ খায় দোল ।

ফুচকা ও আচারের ঘ্রাণ ছুটে আসে

আমাদের ইশকুলে রোজ রোদ হাসে ।।

রোজ আসে আইসক্রিম, চটপটিঅলা

ডেকে ডেকে বেচে তার বাজখাই গলা ।

সব্বাই খুব খুশি ইশকুলে এলে

সময়টা বেশ কাটে পড়ে হেসে খেলে ।।

চাঁদমামা

শেখ মিজানূর রহমান মিনু

চাঁদমামাটা দুষ্টু বেজায়

দেয় না ঘরে আলো,

তাইতো খোকন ভাত খাবে না

মুখ করেছে কালো।

চাঁদের বুড়ি নানি বুড়ি

ফোকলা দাঁতের হাসি,

মাঝে মাঝে গোমরা মুখো

সেটাও ভালোবাসি।

সুতো কাটো চরকি দিয়ে

তোমার নিপুণ হাতে,

মেঘের সাথে লুকোচুরি

খেলো চাঁদনী রাতে।

তোমার ছেলে চাঁদমামাটা

দুষ্টু কেন বলো,

চাঁদনী রাতে ঘুমপরীটার

পাশে নিয়ে চলো।

কি বললে, আর নেবে না

মুখ ফিরিয়ে নিলে?

আড়ি দেবো তখন দেখো

কানটা নেবে চিলে।

ঘাসফড়িং

শাকেরা বেগম শিমু

ঘাসফড়িং, ঘাসফড়িং

খাও কি ঘাসের দানা?

তোমায় দেখে তিড়িং-বিড়িং

নাচে হরিণ ছানা।

পঙ্গপালের মতো তুমি

জড়িয়ে থাকো ঘাসে,

তোমার গায়ে শিঁশিরকণা

মুক্তার ন্যায় হাসে।

বন্ধু হবে আমার তুমি?

ঘাসফড়িং এর ছানা!

দুই বন্ধু খেলবো হেসে,

করবে না কেউ মানা।

যায় না দেখা

ফরিদ আহমদ ফরাজী

উঠোনজুড়ে পুঁইয়ের মাচা

খোকা খুকুর তা ধিন নাচা

শীতসকালে রসের হাঁড়ি

যায় না পাওয়া কারো বাড়ি।

বৈশাখের ঐ চড়ক মেলা

দুরন্তদের নানান খেলা

এসব কিছু যায় না দেখা

পাঠ্যবইয়ে হয় না শেখা।

গাছের মাথায় শালিক বাসা

কিচির মিচির পাখির ভাষা

কোথায় গেলো হালের গরু

পাটের দঁড়ি বুনো তরু।

শাপলাফোটা বিল গেলো কই

পদ্ধপুকুর ঝিল গেলো কই

পুকুর ভরা মাছ গেলো কই

শ্যামল সবুজ ঘাস গেলো কই?

দেখছি শুধু দালানকোঠা

কোথাও নেই ঝিঙে বোঁটা।

ঢেঁকিছাটা চাল গেলো কই?

জাঁতায় পেষা ডাল গেলো কই?

এসব কিছু যায় না পাওয়া

জানলা দিয়ে পুবাল হাওয়া।

পরীক্ষার সময়

মাসুদ রানা

পরীক্ষাটা সামনে এলেই

মাথায় পড়ে বাজ,

যেটা পড়ি সেটাই দেখি

নতুন লাগে আজ।

পড়া যদি থাকে সব

কোনো ভাবনা নাই,

এখন চেয়ে দেখি আমার

কিছুই পড়া নাই।

সারাদিনের ভাবনা এখন

কেমনে করি পাস,

সারাবছর ফাঁকি দিলাম

এখন সর্বনাশ।

এবার যদি কোনোমতে

পাস করে যাই ভাই ,

এমন পড়া পড়ব তখন

যার তুলনা নাই।

শূন্য হাত

শামসুল আরেফীন

জগৎ মাঝে কত লোকে

চলছে দম্ভ ভরে,

তারাই শেষে রোগে শোকে

দেখছি গেছে মরে।

শক্তি বলয় যতই থাকুক

যাবে খালি হাতে,

অর্থবিত্ত ফেলে রেখে

শূন্য কেবল পাতে।

আমার বাংলাদেশ

মজনু মিয়া

যুদ্ধ শেষে মুক্ত হলো

আমার বাংলাদেশ,

কত রক্ত তাজা প্রাণের

বিনিময়ে শেষ।

দেশটা আমার প্রাণের প্রিয়

ভালোবাসি খুব,

এই দেশেতে শস্য শ্যামল

রূপ যে বহুরূপ।

স্বাধীন আমি স্বাধীন বাংলা

স্বাধীন দেশের প্রাণ,

বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের

পাই যে মধুর ঘ্রাণ।

স্বাধীন দেশে

শামীমা জান্নাত শিউলী

স্বাধীন দেশে মুক্ত প্রাণে

ওড়ে দেখো পাখি,

সবুজ শ্যামল ফসল দেখে

জুড়িয়ে যায় আঁখি।

স্বাধীন দেশে লাল সবুজের

ওড়ে বিজয় নিশান,

নতুন সুরে সূর্য ওঠে

হাসে বাংলার কৃষাণ।

স্বাধীন দেশে স্বপ্ন বুকে

মুখে ফোটে হাসি,

বাংলা আমার জন্মভূমি

তাইতো ভালোবাসি।

শান্ত প্রভাত

মো. তাইফুর রহমান

প্রভাত বেলা মন কেড়ে নেয়

ঘরে থাকা দায়

গাছে গাছে মধুর সুরে

পাখিরা গান গায়।

চারদিকে ফুলের মেলা

কী যে মধুর ঘ্রাণ!

ঘাসের বুকে ফড়িং নাচে

ব্যাকুল আমার প্রাণ।

প্রভাত বেলা মেঠো পথে

ঘুরতে আমি যাই

নীল আকাশের মায়ায় পড়ে

শান্তি খুঁজে পাই।

শিশির ভেজা প্রভাত বেলা

কী অপরূপ সাজ!

ব্যস্ত কৃষক মাঠে যাবে

করবে কতো কাজ।

শান্ত প্রভাত কি চমৎকার!

সুখের পরিবেশ

সূয্যিমামা জেগে ওঠে

ভালো লাগে বেশ।