শীত

আবুবকর সালেহ

লেপের উমে কিযে আরাম

হাঁড়কাঁপানো শীতে

বিবেক বলে আমরা সবাই

হেরে গেছি জিতে।

পথের বাঁকে দেখি যাকে

কাতর পেটের জ্বালায়

শীতের সাথেও যুদ্ধ করা

ভাঙা ঘরের চালায়।

অসুখ বিসুখ বাঁচা মরার

কেউ রাখে না খবর

তাদের কাছে ভিটেমাটি

জিন্দালাশের কবর।

সিটিয়ে থাকে সারাজীবন

ভয়টা শুধুই বাঁচার

আমরা দেখি দু’চোখ মেলে

বিবেক কত লাচার।

মানবতা জাগুক সবার

উমের দুয়ার খুলে

চাঁদের হাসি সবার মুখে

দাওনা আবার তুলে।

ছড়াও সুবাস তোমার দানে

কুঁড়েঘরের ফাঁকে

কষ্টগুলো হাতছানিতে

তোমায় যেন ডাকে।

তারাও মানুষ জীবন কাটে

কষ্ট কারাগারে

স্বপ্ন তাদের থাকলো চাপা

জীবন বোঝার ভারে।

কোন আঁধারে যায় হারিয়ে

বোধ ভাবনা দিশা

মানবতার কান কেটে নেয়

এ কোন অমানিশা?

নতুন বছর

এম সোলায়মান জয়

নতুন বছর নতুন দিনে

নতুনের গান বাজাই

নতুন নতুন স্বপ্ন দিয়ে

নতুন দিনকে সাজাই।

নতুন বছর আসুক নিয়ে

নতুন সুখের বান

হাসি খুশি আনন্দেতে

ভরে উঠোক প্রাণ।

শিশু কিশোর সবার হাতে

উঠলো নতুন বই

নতুন বছর নতুন বইয়ের

গন্ধে মেতে রই।

নতুন বছর নতুন বার্তা

নতুন স্বপ্ন আশা

সবার মাঝে দেই বিলিয়ে

মনের ভালোবাসা।

চাষির গান

জনি সিদ্দিক

অনেক ত্যাগে সবার জন্য

ফসল ফলায় চাষি,

জীবনজয়ী ওই চাষিদের

তাই তো ভালোবাসি।

ফজর পড়ে যায় মাঠে যায়

আসর বাদে ফিরে,

ক্লান্ত দেহে শান্ত মনে

তসবি জপে নীড়ে।

ঝড় বাদলে ফসল হারায়

তবুও মন হারায় না,

আবার উঠে দাঁড়ায় সে যে

হাল ছেড়ে তো যায় না।

নেই গায়ে তার দামি পোশাক

নেইকো দালান বাড়ি,

সবার জন্য ফসল ফলায়

তার অবদান ভারি।।

স্বাধীনতার ঘ্রাণ

মীর শাহনাজ রহমান

মায়ের আঁচল রক্তে ভিজলো

জন্মভূমির জন্য,

ঝাঁঝরা করেছে ছেলের বক্ষ

তবুও জননী ধন্য।

লাল সবুজের বিজয় নিশান

উড়ছে সফেদ আকাশে,

যমুনার জলে আজো ভেসে চলে

বারুদ গন্ধ বাতাসে ।

নয় মাস ধরে গোলাগুলি করে

করলো অনেক যুদ্ধ,

মুক্ত আকাশে উড়ছে বাতাসে

পতাকা কেমন শুদ্ধ।

করেনি বীরেরা মৃত্যু পরোয়া

দিয়েছে ঢালিয়া রক্ত,

হোক না পালন বিজয় দিবস

লাল সবুজের ভক্ত।

পাতিয়াছে বুক আসিয়াছে সুখ

জেগেছে দেশের প্রাণ,

লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পাই

স্বাধীনতার ঘ্রাণ।

শীত সকালে

তাজুল ইসলাম নাহীদ

শীত সকালে সবাই বসে

খাই যে চিতই পিঠা,

খেজুর রসে লাগে আহা!

মনভোলানো মিঠা।

বাড়ি বাড়ি সবাই দেখি

পাশাপাশি বসে,

পিঠার নেশায় যায় হারিয়ে

খেজুরেরই রসে।

খায় যে কত মজা করে

দেখলে জুড়ায় আঁখি,

পিঠা খেতে একে অপর

করে ডাকাডাকি।

বোন দুলাভাই আসে আরো

মনে লাগে দোলা,

শীতকালীন এই মধুর দৃশ্য

যায় কি কভু ভোলা?

নতুন বই

রেজাউল রেজওয়ান

নতুন ক্লাসে নতুন বইয়ের

গন্ধটাতো বেশ!

ছবি দেখে মুগ্ধ খোকা

পাতা হয় না শেষ।

এ বই পড়ে জ্ঞানী হবে

শিখবে অনেক কিছু,

খোকা যাবে সামন পানে

থাকবে না সে পিছু।

দেশের সেবা দশের সেবা

করবে বড় হয়ে,

মনের ভেতর এমন পণই

খোকা গেলো বয়ে।

ঝিঙে গাছে ফিঙে নাচে

মোঃ রজব আলী

ঝিঙে গাছে ফিঙে নাচে

ঝড় বাদলের দিনে,

ধরাধামে আঁধার নামে

সূর্য বিহীন ধামে।

ফাঁকে ফাঁকে দেয়া ডাকে

বিদ্যুৎ চমকায় দূরে,

দমকা হাওয়া করে ধাওয়া

মেঘমালা যায় উড়ে।

গাছের শাখে কোকিল ডাকে

বৃষ্টির জলে ভিজে,

কোথায় যাবে কই পালাবে

উপায় করে কি যে।

বৃষ্টি ঝরে নিচে পড়ে

টাপুর টুপুর করে,

অধিক বৃষ্টি বানের সৃষ্টি

নদী নালা ভরে।

ভেকের পালে ডোবা খালে

জলের উপর ভাসে,

বৃষ্টিরধারা পেয়ে তারা

মনানন্দে হাসে।

শীত এলো

নাজমুল হোসেন আকন্দ

শীতের দিনে সূর্য্যি মামা

দেরিতে উঠে রোজ,

শীত তাড়াতে কুজো বুড়ি

রোদের করে খোঁজ।

ঘাসের ডগায় শিশির কণা

দেখতে লাগে ভালো,

মুক্তার মতো দেখায় তাদের

যখন পড়ে আলো।

ভাপা পিঠার নেইকো জুড়ি

কে না খেতে চায়,

তাইতো সবাই মায়ের টানে

গায়ে ছুটে যায়।

কাউন ধানের মাঠে দেখি

নানান পাখির ঝাঁক,

গভীর রাতে রাস্তা জুড়ে

খেকশিয়ালের হাঁক।

ঝাপসা ঘন কুয়াশাতে

উঠোন থাকে ঘেরা,

বাংলাদেশে এই ঋতুটির

হলো আবার ফেরা।