আগুনের ফুলকি
ওমর বিশ্বাস
ঝুলে আছে শূন্যতায় হৃদয়ের চোখ
বিনিদ্রিত থেকে খোঁজে শান্তি দিগবিদিক
চোখ সে তো বহুমুখী- ঘোরে চারদিক
ঘরের ভিতর মন হয়নি তো পরখ।
চোখে রাত আসে নেমে অন্ধকার মতো
গোলক বেঁধেছে ঘন অমানিশা তাতে
গাঢ় হয়ে আসে আরো যায় না প্রভাতে
অতীতের কালো ছায়া জমেছে যে কত!
আশার আকাশ আজ ছুঁই ছুঁই করে
ভোরের সফেদ আলো উঁকি দেয় নিত্য
আমরাও বুঝেছি তারে হই নাকো ভৃত্য
আগুনের ফুলকি তাই প্রতিদিন ঝরে।
আমরাই এনেছি দিন দুর্জয়ের ভোর
আমরা কি বুঝেছি তার আদর কদর!
সুখ দাও
মুহাম্মদ রেজাউল করিম
কী এক ভয় কাজ করে মানুষের মনে
বাঁকা চাঁদ নিভে যায় আকাশে
চারপাশে অন্ধকার জ্বলে
নিভে যায় সুখ
সুখের প্রতীক্ষায় সময় কাটে।
হে প্রভু
প্রতীক্ষা আর কতো কাল?
তুমি তো ভালোবাসো মানুষকে,
তোমার ভালোবাসায় সিক্ত হোক এ হৃদয়।
হে প্রভু
তুমি ছাড়া মাবুদ নেই
তুমি ছাড়া ইলাহ নেই।
স্ফীতিশীল প্রণয়
শারমিন নাহার ঝর্ণা
দিন দিন বড্ড বেশি স্ফীতিশীল হচ্ছে প্রণয়
হৃদয়ের গভীরে শুধুই তোমার ধ্বনি,
ডুমুরফুলের মতো দেখা না গেলেও
শুধু তোমার জন্যই হৃদয়ে জমা মায়ার দ্বীপ।
জানো এই হৃদয়ের প্রাচীর জুড়ে তোমার ছায়া
যখন মনটা অচেনা বিষাদে ভরে যায়,
অকস্মাৎ তোমার মায়া ভরা মুখচ্ছবি
চোখের পাতায় ভেসে ওঠে,
বিষাদগুলো তখন জলীয় বাষ্প হয়ে উড়ে যায়।
মিশে আছো আমার চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসে,
তোমায় অনুভব করি আমার প্রতি নিঃশ্বাসে।
তবু কেন দৌড়াই রোজ
সিদ্দিক আবু বকর
সময়ের সাথে সাথে বদলায় সব
সময়ের সাথে থামে সব কলরব
তিলেতিলে ক্ষয়ে যায় প্রজাপতি জ্যোতি
তিলেতিলে ক্ষয়ে যায় চলমান গতি
যে মাটি দিয়ে আমি, সে মাটিই হই
মাটি মাটি একাকার, মাটিতেই রই।
কী সে এতো অহমিকা! কেন এতো ভাব?
কী সে এতো ছলাকলা! কেন এতো খাব?
সেই সব নিয়ে কি একবারও ভাবি?
ভাবনাকে পিছু ঠেলে যত হাবিজাবি।
দিন শেষে সবটাই শুধু মোহমায়া
দিন শেষে সবটাই অহেতুক ছায়া
ডুবে গেলে সূর্য ছায়াটাও নাই
উবে গেলে নিঃশ্বাস সবটাই ছাই
তবু কেন জানি আমি দৌড়াই রোজ
তবু কেন জানি করি প্রগতির খোঁজ!
এ পথে আর হাঁটছি না
মান্নান নূর
তোমার কথা এখন আমি ভাবছি না
ভেবে ভেবে অকারণে কাঁপছি না
নির্ঘুমে রাত এখন তো আর থাকছি না
স্বপ্ন ডানা মেলে দিতে থামছি না।
তোমার কথা ভেবে ভেবে ঘামছি না
পাথর চাপা কষ্ট বুকে রাখছি না
হাওয়ায় ছুড়ে দি”িছ কিš‘ বাঁধছি না
তোর বিরহে এখন আমি কাঁদছি না।
পাগল হয়ে তোমার নামতো জপছি না
ওই চেনা মুখ আমার বুকে খুব চিনা
তবুও তোমায় ঘৃণা দিতে পারছি না
ডাকলে কভু এ পথে আর হাঁটছি না।
ভালো থেকো ভালোবাসা আনছি না
তোমার দিকে আমার চাওয়া মানছি না।
সম্মতি পেলে
মুহাম্মদ রফিক ইসলাম
যতটুকু সম্ভব তুমি মৌন থেকো
তোমার মৌনতাকে সম্মতি জেনে
উঠোনে দাঁড়িয়ে বারান্দায় ঝুলে যেতে পারি।
দরজা খুলতে না-চাইলেও অনেকেই কিন্তু
জানালায় উঁকি দিয়ে বাইরের ত্বকে ভিতর লুকায়!
এবারেও তুমি লুকোচুরি খেলায় থেকো
যদি সৌভাগ্য হয় লুকানোর, চেষ্টা করে দেখি...
কতটুকু শূন্যতায় নিজেকে লুকোতে পারলে
তোমার ভেতর বিলীন হয়ে ছুঁতে পারি মন।
স্মৃতির অ্যালবামে দাঁড়িয়ে অনেকেই কিন্তু
পূর্ণ স্থানেও শূন্য বসিয়ে শূন্যতায় কাঁদে!
তোমাকে জিতিয়ে দিতে আমিও শূন্য হতে চাই,
শূন্যতার পূর্ণতা বুকে নিয়ে।
স্বর্ণলতা জীবন
মুসাফির জিয়া
দুঃখে অনেক রোদনের পর
কেউ কেউ কান্না ভুলে
নকল হাসি ঝুলিয়ে রাখে
ঠোঁটের বারান্দায় ।
কষ্টের দুর্গে অনেক যুগ থাকার পর
ভোঁতা হয় ধারালো অনুভুতি সব -
মানুষ ভুলে যায় তখন
সুখ দুঃখের অস্পৃশ্য পার্থক্য ।
স্বপ্ন চুরি হয় যে জীবনের
সেখানে ভালোবাসা পলাতক !
স্বর্ণলতা বেঁচে থাকে করুণায়
যেন পরনির্ভর কারো জীবন প্রবাহে ।
পথভুলো ঠিকানা
হাসিবুল হাসান হিমেল
জানালা খোলা পেয়ে
মাঝে মাঝে কিছু জোনাকিপোকাপথভুলে
আমার রুমে ঢুকে পড়ে!
আমি প্রতিবারই তাদেরকে তাড়িয়ে দিই!
ঠিক যেমন তোমার মনের দরজা খোলা পেয়ে–
পথভুল করে ঢুকে পড়ায় তাড়িয়ে দিয়েছিলে তুমি!
তবে মায়া হয় জোনাকিপোকাগুলোর কথা ভেবে!
তুমি যদি আমাকে তাড়িয়ে না দিতে–
তবে আজ আমার ঘর জোনাকিপোকায় ভরে যেত!