এই গাঁয়ে বাড়ি
শাহজাহান মোহাম্মদ
কৃষকের ধান কাটা
মাঠে মাঠে ছবি
ধান ভাঙ্গা দোলাচালে
খুশি রাঙা রবি।
কাঁচা রোদ গায়ে মেখে
সকালের হাসি
সবজির ভরা ক্ষেতে
যায় ছুটে মাসি।
সবুজের সমারোহে
কলোরবে পাখি
স্বপ্নের মায়াজালে
কৃষাণির আঁখি।
মা ও মাটি ভালোবাসি
রসে ডুবা হাড়ি
এই গাঁয়ের ছেলে আমি
এই গাঁয়ে বাড়ি।
শীতের দিনে
সাঈদুর রহমান লিটন
দাঁতে দাঁতে কাঁপে খুকি
মোটা জামা গায়,
জুতা পরে হাঁটে খুকি
সাদা মোজা পায়।
মাথায় দিয়ে মানকি টুপি
খুকুমণি যায়,
রাস্তার পাশে দোকান থেকে
আচার কিনে খায়।
হাতে খুকির রঙিন ঘড়ি
গলায় পুঁতির হার,
শীতের দিনে পরে আছে
ডরিমন মাফলার।
ফুলের মতো কোমল মেয়ে
মুখে মাখে জেল,
রেশমি কালো শুকনো চুলে
মাখে নারকেল তেল।
হেমন্তের বাংলা
এবি ছিদ্দিক
সোনার ধানে ভরে গেছে
গৈ গেরামের মাঠ
রাস্তা ঘাটে বসে পড়ছে
চিতৈ পিঠার হাট।
কৃষাণ পাড়ার মাটির উঠোন
ধান শুকাতে তৈরি
সবার আশা হয় না যেনো
আবহাওয়া বৈরি!
সন্ধ্যার আগেই ধানের আঁটি
নিয়ে আসবে বাড়ি
মাড়াই শেষে ধানগুলো সব
ভরে রাখবে হাঁড়ি।
কৃষাণী আর কৃষাণ মিলে
সেদ্ধ করবে ধান
মাঝে মাঝে গাইবে তারা
আলোমোতির গান।
ঘুড়ির মেলা
বিধান চন্দ্র দেবনাথ
ঘুড়ি উড়ে আকাশেতে
রঙ বেরঙের ঘুড়ি,
ছোট্ট খুকি ঘুড়ি উড়ায়
হাতে পরে চুড়ি।
রঙ বেরঙের চুড়ি হাতে
রুনুঝুনু বাজে,
ঘুড়ির উড়ার মেলা বসছে
কেউ যাবে না কাজে।
মনের সুখে উড়ছে ঘুড়ি
নীল আকাশের পানে,
খুকিরা সব মনের সুখে
নাচছে গানে গানে।
প্রতি বছর ঘুড়ি উড়ার
মেলা বসে মাঠে,
খোকা-খুকি ঘরে ফিরে
সূর্য গেলে পাটে।
ছড়ার আলো
হাফিয রেদওয়ান
একটি ছড়া খুকুর পাঠে
ছন্দ তোলে,
একটি ছড়া ছড়ার হাটে
নাচে দোলে।
একটি ছড়া পাখির বুলি
সকাল বেলা,
একটি ছড়া আঁকার তুলি
রঙের মেলা।
একটি ছড়া ভেঁপু বাজায়
অট্ট হাসে,
একটি ছড়া কথা সাজায়
সত্য চাষে।
একটি ছড়া কথা বলে
হিংসা ছাড়ে,
একটি ছড়া ভালোবেসে
হৃদয় কাড়ে।
একটি ছড়া মেরুদন্ড
ছড়ায় আলো,
একটি ছড়ার নাই যে দ্বন্দ্ব
পড়তে ভালো।
বুলবুলি
মোঃ সাগর মিয়া
বৃষ্টি মাখা স্নিগ্ধ দিনে
বুলবুলিটা আসে!
মগডালের ঐ বসত থেকে
ফ্যালফেলিয়ে হাসে।
বৃষ্টি নাকি ভাব জমাবে
বুল-বুলিটার সাথে!
শালিক টিয়ার তলব শুনে
বাবুই চড়ুই মাতে।
বুলবুলি-টা বেজায় তেজী
তাই ধরেছে ঢং!
কিচির-মিচির কলতানে
দারুণ আয়োজন।
কোকিল পাখির মিষ্টি গানে
টুনটুনি-টা নাচে!
তাই না দেখে বুলবুলিটা
হাসতে হাসতে বাঁচে।
রাগ অভিমান ঢলে দিলো
বৃষ্টি বুড়ির মাঝে!
টোপর পরা বুলবুলিটা
রঙ-বেরঙে সাজে।