জেলে পাড়ার ছেলে
শাহজাহান মোহাম্মদ
জেলে পাড়ার ছেলে
পিঠালি পড়া গা
দুই মোহনার মিলন মেলায়
খেলছে ইলিশ ছা।
পাঁজরগুলো খাঁচার মতো
বুকের ভেতর ঝুলে
বেঁচে থাকার একটু আশায়
ঝড় তুফানে দুলে।
ঢেউয়ে ঢেউয়ে মাছের নাচন
জোসনা ভরা রাতে
সাগর দোলায় ভাসতে থাকে
সঙ্গী ক’জন সাথে।
গভীর রাতে চাঁদের কিরণ
ভাঙা ছইয়ের ফাঁকে
লুকোচুরি আশার আলোয়
স্বপ্ন ছবি আঁকে।
বইমেলা
হাফিয রেদওয়ান
খোকনসোনা বইমেলায়
বই যে কিনে নিবে
বোন দিদাকে দিবে।
বাঘের ছানা মাতে খেলায়
চড়ুই ফিঙে নাচে
গল্পের বইয়ে আছে।
মজার মজার ছড়া
বইগুলোতে ভরা।
খোকা কিনেছে বই
খুশিতে হইচই।
ফেব্রুয়ারি এলে
শামীম খান যুবরাজ
সালাম রফিক বরকতেরা
ভাষার জন্য প্রাণ দিলো
একটি মধুর গান দিলো।
সে গান সুখে গাচ্ছে অলি
গাচ্ছে ভ্রমর-ফুলের কলি
গাচ্ছে দোয়েল
বনের কোয়েল
গাচ্ছে টিয়া-ময়না-শালিক
সবাই তো এ ভাষার মালিক।
শব্দ শায়ান গাচ্ছে এ গান
সায়েম গানে দিচ্ছে যে টান
সুর ছড়িয়ে গাচ্ছে দেশের
যত্তো মেয়ে-ছেলে,
এ গান শোকের বার্তা ছড়ায়
ফেব্রুয়ারি এলে।
লাল সবুজের দেশ
শাকেরা বেগম শিমু
আমার বাড়ি চায়ের দেশে সুরমা নদীর পাড়ে,
সবুজ টিলার হাতছানি ভাই মন যে সদাই কাড়ে।
মাঠভরা ধান সোনারোদে ঝলমলিয়ে হাসে,
নদীর দুকূল জড়িয়ে থাকে স্নিগ্ধ কোমল ঘাসে।
হেথায় আছে জারুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার মেলা,
নদীর ওপার সবুজ পাহাড়, পাংশু মেঘের ভেলা।
ছাতিম গাছে শালিক নাচে হিজল বনের কাছে,
বুলবুলিটা অবাক হয়ে তাইতো চেয়ে আছে!
বৃক্ষভরা রাঙা শিমুল দুলছে দেখো গাছে,
লালপুকুরে লাফিয়ে বেড়ায় ট্যাংরা-পুঁটি মাছে।
কাজলা দিঘীর বুকে দেখো রাঙা হিজল ভাসে,
নিতল দিঘীর শীতল জলে শাপলা-কমল হাসে।
ঝর্ণা ধোঁয়া পাহাড় যেথায়, সবুজ ঘেরা বন,
সেথায় সদা হারিয়ে যেতে চায় যে আমার মন।
ভোরে পাহাড়-বন মাড়িয়ে সূর্য উঠে হেসে,
দেখতে যদি চাওগো এসো ‘লাল-সবুজের দেশে’।
একুশ মানে
সাকী মাহবুব
একুশ মানে কৃষ্ণচূড়ার লাল
একুশ মানে খুকুর নরম গাল।
একুশ মানে রঙিন পালের নাও
একুশ মানে সবুজ শ্যামল গাঁও।
একুশ মানে দোয়েল শ্যামার গান
একুশ মানে কান্না হাসির তান।
একুশ মানে শিশুর মুখের বুলি
একুশ মানে গান কবিতার ঝুলি।
একুশ মানে মনের সকল আশা
একুশ মানে মায়ের মধুর ভাষা।
প্রতিদিন
নূরুল ইসলাম মনি
প্রতিদিন ভোরবেলা
ঘুম থেকে উঠি
নামাজটা সেরে নিয়ে
রাস্তায় ছুটি।
হেঁটে হেঁটে পার হই
কতো ঘর বাড়ি
চোখে পড়ে সরিষার
ক্ষেত সারি সারি।
পাশ দিয়ে চলে গেছে
পথ আঁকাবাঁকা
ঠিক যেনো ছবি এক
পটুয়ার আঁকা।
চোখ ভরে দেখি আর
খুশি হই মনে
মিশে যাই আমি এই
প্রকৃতির সনে।
আমরা শিশু
মাহমুদা সিদ্দিকা
আমরা শিশু ফুলের কলি
নতুন আলোর ভোর
কোরআন হাদিস শিক্ষা নেবো
দাও খুলে দাও দোর।
আমরা পাখি মেলবো পাখা
উড়বো নীলের দেশে
আকাশ বাতাস দেখবো ঘুরে
মেঘের ডানায় ভেসে।
গান গজলে আনবো তুলে
আল্লাহ পাকের শান
দু’চোখ মেলে দেখছি যাহা
সবই প্রভুর দান।
দাদুর বিড়াল ছানা
এম, আলমগীর হোসেন
সারাবেলা করে খেলা
দাদুর বিড়াল ছানা,
যখন যেথায় ইচ্ছে লাফায়
শোনে না সে মানা।
মাঝে মাঝে ডাকে সে যে
মিউ মিউ সুরে,
দাদুর কোলে আদর পেলে
থাকে চুপটি করে।
দাদু তারে নামটি ধরে
ডাকেন যখন ‘রাধে’,
একলাফে সে উঠে বসে
দাদুর কোলে কাঁধে।
দুষ্ট মিষ্টি ছোটা ছুটি
মাতায় বাড়িখানা,
তবুও সে সবার প্রিয়
দাদুর বিড়ালছানা।